যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের গতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তবে এই আইনগুলো এতই জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ যে তা কার্যত একটি বাইজেন্টাইন কাঠামো তৈরি করছে। ফলে এআই নির্মাতারা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

প্রতিটি রাজ্য নিজস্ব নিয়মকানুন তৈরি করায় এক রাজ্যের আইন অন্যটির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো রাজ্যে চ্যাটবটের স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক, কোথাও ডেটা গোপনীয়তার কঠোর শর্ত, আবার কোথাও অ্যালগরিদমিক জবাবদিহিতা জোরদার করা হয়েছে। এই বৈচিত্র্য এআই কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করছে প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদা মডেল তৈরি করতে, যা সময় ও অর্থ উভয়েরই অপচয়।

একটি এআই ইনসাইডার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানি পক্ষে একক এআই মডেল দিয়ে সব রাজ্যের আইন মেনে চলা সম্ভব নয়। ফলে তাদেরকে 'জুরিসডিকশনালি কমপ্লায়েন্ট' বা নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন অনুসারী চ্যাটবট মডেল তৈরি করতে হচ্ছে। এটি প্রযুক্তিগত জটিলতা ও খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিভক্ত আইন কাঠামো উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। ছোট স্টার্টআপদের পক্ষে এত ব্যয়বহুল সম্মতি প্রক্রিয়া সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, বড় কোম্পানিগুলো আইনি জটিলতা এড়াতে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যেই নিজেদের সেবা সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এআই শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় আইনের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটি শীঘ্রই সম্ভব হবে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এআই নির্মাতাদের এই জটিল আইনি জালেই কাজ করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।