আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ান সেনা অভিযান সংক্রান্ত গোপন প্রতিরক্ষা নথি গণমাধ্যমে ফাঁসের দায়ে কারাবন্দী থাকা ডেভিড ম্যাকব্রাইড সম্প্রতি প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। ২৭ মাস জেল খাটার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে শীর্ষ গোপন নথি চুরি ও সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করলে পাঁচ বছর আট মাসের কারাদণ্ড হয় তার। পরবর্তীকালে এই তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিশন প্রমাণ পায় যে, যুদ্ধ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ান বাহিনী ৩৯ জন আফগানকে অবৈধভাবে হত্যা করেছিল।
অ্যাটর্নি-জেনারেল মিশেল রোল্যান্ডের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ম্যাকব্রাইডের প্যারোল আবেদন যাচাই-বাছাই করে মঞ্জুর করা হয়েছে। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত এই সাবেক সামরিক আইনজীবী এখন সমাজের তত্ত্বাবধানে থেকে বাকি সাজা কাটাবেন। মুক্তি পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে ম্যাকব্রাইড তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা তাকে কখনো হাল ছাড়তে দেয়নি। অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণামূলক বার্তার কথাও তিনি স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি জানান, তার ক্যান্সার চিকিৎসাযোগ্য এবং ফুসফুসের একটি অংশ অপসারণের জন্য শীঘ্রই তার অস্ত্রোপচার হবে।
তার আইনজীবী এডউইনা লয়েড এই সিদ্ধান্তকে 'সঠিক পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের (এডিএফ) আইনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং অপরাধের শাস্তি ভোগ — উভয় ক্ষেত্রেই ম্যাকব্রাইডের জীবন অস্ট্রেলিয়ার সেবায় উৎসর্গিত। অন্যদিকে, বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেখিয়েছিল যে, ব্যক্তিগত স্বীকৃতি লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এ কাজ করেছেন এবং নথি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ফাঁসের পদ্ধতি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ম্যাকব্রাইডের আইনজীবীরা দাবি করেন, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ এবং সম্মানজনক উদ্দেশ্য থেকেই তিনি তথ্যগুলো প্রকাশ করেছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক মন্তব্য করেন, ম্যাকব্রাইড 'সচ্চরিত্র' হলেও সামরিক গোপনীয়তা ফাঁস করা 'আস্থার চরম লঙ্ঘন' এবং তার কাজের জন্য তিনি কোনো অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি। এবিসি-তে প্রকাশিত তার ফাঁস করা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৭ সালে 'দ্য আফগান ফাইলস' নামে একাধিক প্রতিবেদন তৈরি হয়, যা আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার অভিজাত বিশেষ বাহিনীর কার্যক্রম এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সম্পর্কে অভূতপূর্ব তথ্য তুলে ধরে। ২০২০ সালে ব্রেরেটন রিপোর্টে 'বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ' পাওয়া যায় যে, অভিজাত সেনারা ৩৯ জনকে অবৈধভাবে হত্যা করেছে।
এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ ওয়াচডগ সংস্থা গঠন করা হয়, যা এডিএফ-এর ১৯ সদস্যের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে। মোট ৫৩টি মামলার মধ্যে ৩৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং দুই প্রাক্তন স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস) সৈনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত জীবিত সৈনিক বেন রবার্টস-স্মিথের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে আনা হয়। অলিভার শুলজও একই ধরনের একটি অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাতের অভিযানে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ও আটকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে এসএএস সদস্যদের বিরুদ্ধে।




