প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান তৈরির স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন কোর্স ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী ও প্রথম আলোর অনলাইন গ্রাফিকস ডিজাইনার। ২০২৫ সালে নেপালের একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি হলেও ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তার যাওয়া হয়নি।

কিন্তু সেই ব্যর্থতাই তাকে থামিয়ে না রেখে বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে শেখার নতুন পথ অনুসন্ধানে আরও উৎসাহী করে তোলে। ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দল পরিচালনা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও যোগাযোগের মতো বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে নেতৃত্বের প্রতি তার আগ্রহ প্রবল ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অনলাইনে খুঁজে পান ‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’-এর সন্ধান।

হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকরা ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সাল থেকে এটি স্বতন্ত্র অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ যাবতকালে বিশ্বের ১৯৫টি রাষ্ট্রের পাঁচ লাখেরও বেশি তরুণ এই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। সম্পূর্ণ অর্থায়িত এই উদ্যোগটি মূলত সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম কলেজগামী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তৈরি, যাতে তারা নিজ নিজ সমাজে নেতৃত্বদানে সক্ষম হয় এবং শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে।

গত মে মাসে তিনি ‘আর্স্পায়ার লেন্সস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এর তৃতীয় ব্যাচের জন্য আবেদন জমা দেন। এই আবেদনের জন্য আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতার সনদ বাধ্যতামূলক নয়; তবে ইংরেজি ভাষা পড়ে ও শুনে বোঝার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনের শর্তের মধ্যে রয়েছে: আর্থিকভাবে পশ্চাৎপদ ও মেধাবী হওয়া, বয়স ১৮ থেকে ২৯-এর মধ্যে, উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ইংরেজি জ্ঞান থাকা, এবং নিজ পরিবারে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনো।

নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইলটি তার হাতে আসলে স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি জন্মায়। বাংলাদেশ থেকে এই আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব গঠনের সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান বিবেচনা করছেন। নয় সপ্তাহব্যাপী এই প্রোগ্রামটি তিনটি আলাদা মডিউলে বিভক্ত। হার্ভার্ডের পাশাপাশি অক্সফোর্ডের মতো সেরা বিদ্যায়তনের শিক্ষক-প্রশিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নেন। অংশগ্রহণকারীরা নানা দেশের সমমনা মানুষদের সাথে যৌথ কাজ, দলীয় অনুশীলন ও বিশ্ববাদী নেটওয়ার্ক গড়ার সুযোগ পান।

এ কর্মসূচি থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্স, বিশেষজ্ঞদের মাস্টার ক্লাস, উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান, নিজস্ব ধারণা বাস্তবায়নের অর্থায়ন এবং ব্যবহারিক দক্ষতা তৈরির কর্মশালায় অংশগ্রহণ।