সম্প্রতি কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের দ্বিতীয় গান ‘মেঘ’ প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্ষার আবহে তৈরি এই গানটি নিয়ে শ্রোতাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক, তবে প্রকাশের পর দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ বলেছেন গানটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, আবার অনেকে মনে করছেন কবিতার অংশটি বাদ দিলে গানটি আরও উপভোগ্য হতো।

গানটির সংগীতায়োজন করেছেন অর্ণব চক্রবর্তী এবং কণ্ঠ দিয়েছেন মোহাম্মদ শোয়েব, মাশা ইসলাম ও মৌসুমী দত্ত। শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ড ও হিপহপ ঘরানার মিশেলে তৈরি এই গান নিয়ে ইউটিউব ও ফেসবুকে নানা মন্তব্য দেখা গেছে। কেউ কেউ কঠোর ভাষায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে সমালোচনার ঝড়ে নিজে কিছু না বললেও স্ত্রী সুনিধি নায়েক ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে শিল্পীর প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, একজন শিল্পীও একজন মানুষ। তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি সবার ভালো লাগবে এমন কোনো নিয়ম নেই। কিছু গান হৃদয়ে গেঁথে যায়, কিছু ছুঁয়ে যেতে পারে না—এটাই শিল্পের স্বাভাবিক নিয়তি। তাই কাজের সমালোচনা করুন, কিন্তু শিল্পীকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করবেন না।

সুনিধি অর্ণবের দীর্ঘ সংগীতজীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মাঝে মাঝে’, ‘আধেক ঘুমে’, ‘কান পেতে রই’, ‘মেঘ বলেছে যাবো’, ‘প্রচণ্ড গর্জনে’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সবার গান সমান ভালো হয় না, হবেও না—কারণ তিনি যন্ত্র নন, মানুষ। একজন শিল্পী কখনোই শুধু সেরা কাজ দিয়ে বেঁচে থাকেন না, ব্যর্থতাও তাঁর যাত্রার অংশ। কিন্তু প্রতিটি অপছন্দের কাজের জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান ও বিদ্রূপ করা হলে একদিন সেই শিল্পী আর নতুন কিছু সৃষ্টির সাহস পাবেন না। তারপর যখন তিনি নীরব হয়ে যাবেন, তখন আমরা আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলব শিল্পীটা হারিয়ে গেল কেন?

সুনিধি আরও বলেন, হারিয়ে যায় না শিল্পীরা, আমরা আমাদের নির্মমতা দিয়ে তাঁদের হারিয়ে দিই। তাই তিনি সমালোচনার পাশাপাশি সম্মানটুকু অটুট রাখার অনুরোধ জানান। কারণ একজন শিল্পী দেবতা নন, তিনি আমাদেরই মতো একজন মানুষ—যারও অনুভূতি আছে, কষ্ট আছে এবং আছে ভালোবাসা দিয়ে সৃষ্টি করে যাওয়ার স্বপ্ন। গত ২৮ জুন প্রকাশিত ‘মেঘ’ গান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সুনিধির এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।