আইওয়ার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী জোশ টুরেকের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বুধবার প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, ওবামা ও টুরেক একসঙ্গে বাস্কেটবল খেলছেন। টুরেক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে চারটি প্যারালিম্পিক গেমসে হুইলচেয়ার বাস্কেটবল খেলেছেন, সেখানে ওবামার বিরুদ্ধে ‘আই-ও-ডব্লিউ-এ’ নামের একটি খেলা খেলেন। ওবামা নিজেই স্বীকার করেন, তিনি টুরেকের কাছে ‘হুপড’ (প্রতিযোগিতায় পরাজিত) হয়েছেন।

ভিডিওতে ওবামা বলেন, ‘আইওয়ায় জয়ী হওয়া সম্পর্কে আমি কিছু জানি।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০০৮ সালের ককাসে তার জয় তাকে ইলিনয়ের তৎকালীন স্বল্পপরিচিত সিনেটর থেকে ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। ওবামা ২০০৮ ও ২০১২ সালের সাধারণ নির্বাচনেও আইওয়ায় জিতেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে আমি যত কাজ করেছি, আইওয়াই ছিল আমার প্রিয় জায়গা। সাধারণ মানুষ যেভাবে এগিয়ে আসে, তাতে এক ধরনের জাদু ছিল।’

ওবামার এই সমর্থন আসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে। তিনি ইতিমধ্যেই কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। গত মে মাসে টেক্সাসে সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর সঙ্গে একটি ট্যাকো শপে দেখা করেন তিনি। বাস্কেটবলের প্রতি ওবামার ভালোবাসা সুবিদিত। হোয়াইট হাউসের টেনিস কোর্টটি তিনি বাস্কেটবল খেলার উপযোগী করে পরিবর্তন করিয়েছিলেন এবং তার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে একটি পেশাদার মানের বাস্কেটবল কোর্ট স্থাপন করেছেন। গত সপ্তাহে সেই কোর্টেই আইওয়ার মেয়ে ক্যাটলিন ক্লার্কসহ ডব্লিউএনবিএ খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

টুরেক বর্তমানে আইওয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তিনি রিপাবলিকান পার্টির বিদায়ী সিনেটর জোনি আর্নস্টের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর্নস্ট দুই মেয়াদ শেষে অবসর নিচ্ছেন। টুরেকের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য অ্যাশলি হিনসন, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আইওয়ায় দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিতেছিলেন এবং আইওয়া থেকে সিনেটে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এক দশকের বেশি সময় আগে। তবে ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে তাদের হাতে লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে।

ভিডিওটির শেষে ওবামা আইওয়াবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘এখন বলটি আপনার কোর্টে, আইওয়া। আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে জোশ টুরেক যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে যান।’