ফুটবল মাঠে রেফারি শুধু খেলোয়াড়দেরই নন, দলের কোচ ও ম্যানেজারদেরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনেন। খেলার নিয়ম লঙ্ঘন বা অসদাচরণের জন্য তাদের হলুদ ও লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়। এই কার্ডগুলোর শাস্তি সম্পর্কে বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে, যা লিগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভিন্ন।
প্রথমে লাল কার্ডের বিষয়টি দেখা যাক। লাল কার্ড মানে ম্যাচ থেকে সরাসরি বহিষ্কার। কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড পেলে তার দল একজন কম নিয়ে খেলা চালিয়ে যায় এবং সে পরবর্তী ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ফিফা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের আসিম মাদিবোর একটি বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে ফিফা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনাও করতে পারে; সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
কোচদের ক্ষেত্রে লাল কার্ডের শাস্তি আরও কঠোর। তাদের সঙ্গে সঙ্গেই টেকনিক্যাল এরিয়া ছেড়ে ড্রেসিংরুম বা গ্যালারিতে চলে যেতে হয় এবং ম্যাচ চলাকালীন দলের কারও সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ থাকে। এর পাশাপাশি পরবর্তী ম্যাচেও তারা নিষিদ্ধ থাকেন। অপরাধের তীব্রতা বেশি হলে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি তদন্ত করে আরও বেশি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা বা স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। একটি বিশেষ নিয়ম হলো ‘বস রুল’, যেখানে বেঞ্চে থাকা কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ করলে এবং অপরাধী শনাক্ত না করলে প্রধান কোচকে সেই অপরাধের দায় নিতে হয় এবং তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া বা সতীর্থদের তা করতে উৎসাহিত করাও লাল কার্ডের কারণ হতে পারে।
হলুদ কার্ড একটি কঠোর সতর্কবার্তা। খেলোয়াড়রা বিপজ্জনক ট্যাকল, চোটের ভান বা রেফারির সাথে অতিরিক্ত তর্কের জন্য এটি পেয়ে থাকেন। বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জন্য নিয়ম হলো—আলাদা দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা। তবে গ্রুপ পর্ব শেষে এবং কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে কার্ডের সংখ্যা রিসেট করা হয়, ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সম্ভব হয়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রুপ পর্বে একটি ও নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে একটি কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হয় না। তবে একই পর্যায়ের ভেতর পরপর কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞা চলে আসে।
কোচ ও ম্যানেজারদের জন্য হলুদ কার্ডের শাস্তি খেলোয়াড়দের চেয়ে কঠোর। প্রিমিয়ার লিগের মতো ক্লাব ফুটবলে একজন কোচ তিনটি হলুদ কার্ড পেলে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। ছয়টি কার্ডে দুই ম্যাচ, নয়টিতে তিন ম্যাচ এবং বারোটি কার্ড পেলে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়ম আরও কঠোর: আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই পরের ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ হয়ে যায়, যা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচের অনুপস্থিতি নিশ্চিত করে।
আইএফএবি-র নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের খেলোয়াড়দের মতো দলের কোচ ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও একই ধরনের শাস্তিমূলক নিয়মের আওতাভুক্ত। এসব নিয়ম মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং খেলার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়ক।




