দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের প্রায় পাঁচ হাজার নাবিকের মধ্যে ব্যাপক মানসিক চাপ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে জাহাজটি। ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে নৌযানটি সমুদ্রে থাকায় এবং কোনো বন্দরে ভিড়তে না পারায় নাবিকদের মধ্যে তীব্র ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যা আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সান ডিয়েগোতে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নাবিকেরা ক্লান্তি ও দীর্ঘদিন বন্দরবিরতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনও বিরাজ করছে। এই দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মনোবল চরমভাবে ভেঙে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁদের প্রিয়জনদের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ এবং তাঁরা নিরাপদে ফিরে আসার জন্য উদ্বিগ্ন।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্য ও নাবিকদের একাংশ মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে জাহাজটি প্রত্যাহার বা বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি বলে তাঁরা মত দিচ্ছেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর এই পরিস্থিতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাপকে সামনে এনেছে। একদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা — এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যদিও ঝুঁকিটি গুরুতর বলে স্বীকার করা হয়েছে।




