যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও ১৭টি অঙ্গরাজ্যের সাথে তিনটি প্রধান ডিম উৎপাদনকারী কোম্পানি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে। অভিযোগ ছিল, কোম্পানিগুলো ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত গোপনে পরামর্শ করে কৃত্রিমভাবে ডিমের দৈনিক দাম বাড়িয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, তারা উর্নার ব্যারি পাবলিকেশন্সের কাছে একই ধরনের বিড জমা দিত, যা ডিমের পাইকারি মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। ফলে গ্রাহকদের বেশি দামে ডিম কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ‘শক্তিশালী কর্পোরেশন যখন পর্দার আড়ালে দাম বাড়াতে চক্রান্ত করে, তখন সাধারণ পরিবারগুলোকেই কষ্ট পেতে হয়। এই ডিম উৎপাদনকারীরা বাজারকে নিজেদের পক্ষে সরিয়ে ভোক্তা ও ব্যবসা থেকে আরও বেশি মুনাফা আদায় করেছে।’

সমঝোতার আওতায় ক্যাল-মেইন ফুডস, ভার্সোভা ও হিকম্যান’স এগ রাঞ্চ মিলিয়ে মোট ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা এবং ৫৩ মিলিয়ন ডিম দান করবে। ডিমগুলো খাদ্য ব্যাংক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হবে। অর্থ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই অ্যান্টিট্রাস্ট মেনে চলার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতিযোগীদের সাথে মূল্য ও বিডিং কৌশল নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে হবে। চুক্তিটি এখন আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষ।

বিচার বিভাগের ওমিদ এ. আসেফি বলেন, ‘এই সমঝোতা বছরের পর বছর ধরে চলা আচরণের অবসান ঘটাচ্ছে যা আমেরিকানদের অর্থ ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।’ ২০২৫ সালের মার্চে বার্ড ফ্লুর কারণে মুরগি জবাইয়ের ফলে ডিমের দাম রেকর্ড ৬.২৩ ডলার প্রতি ডজনে পৌঁছেছিল। উৎপাদনকারীরা দাম বৃদ্ধির জন্য বার্ড ফ্লুকে দায়ী করলেও সমালোচকরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলো বাজারে নিজেদের আধিপত্যের সুযোগ নিয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর দাম ‘নাটকীয়ভাবে কমে যায়’। বর্তমানে ডিমের দাম ২.২০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

ক্যাল-মেইনের প্রধান নির্বাহী শেরম্যান মিলার বলেন, দাম কারসাজির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং তাদের কার্যক্রম আইনসিদ্ধ ছিল। তবে সমঝোতা ‘সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে’। তিনি যোগ করেন, ক্যাল-মেইন মহামারি, আবহাওয়া ও অন্যান্য বাজারের অবস্থার মোকাবিলায় নিজেদের পাল বৃদ্ধি করেছে। ভার্সোভা বলেছে, তাদের অধিকাংশ ডিমের দাম নির্ভর করে মুরগির খাবারের দামের ওঠানামার ওপর। হিকম্যান’স এগ রাঞ্চের মালিক ম্যান্টিকেইরা ইউএসএ জানিয়েছে, অভিযোগে বর্ণিত আচরণ তাদের অধিগ্রহণের আগের ঘটনা।

তবে কিছু ভোক্তা অধিকার গ্রুপ বলছে, এই সমঝোতা যথেষ্ট নয়। ফার্ম অ্যাকশনের সভাপতি অ্যাঞ্জেলা হাফম্যানের মতে, ‘ভোক্তারা রেকর্ড দাম দিয়েছে, আর উৎপাদনকারীরা অসাধারণ মুনাফা করেছে; অথচ এর ফলাফল আরেকটি সমঝোতা যা কোম্পানিগুলো ব্যবসার খরচ হিসেবে নিতে পারে।’ ক্যাল-মেইন তাদের ২০২৫ অর্থবছরে ১.২২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ক্যাল-মেইন ১৫ লাখ ডলার ও ৩০ মিলিয়ন ডিম, ভার্সোভা ৮ লাখ ডলার ও ২০ মিলিয়ন ডিম এবং হিকম্যান’স ১০ লাখ ডলার ও ৩.২৫ মিলিয়ন ডিম দেবে। এই মামলায় নিউ ইয়র্কসহ আরও ১৬টি অঙ্গরাজ্য অংশ নিয়েছে।