ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত তেহরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। পত্রটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। ওই চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলে ধরে ইরাভানি মন্তব্য করেছেন, 'আগ্রাসনকারী হলো যুক্তরাষ্ট্র, তারা কোনো ভুক্তভোগী নয়।'

ইরানের কূটনীতিক চিঠিতে উল্লেখ করেন, যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে উপনীত হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন তার অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে ধারাবাহিক অনীহা প্রদর্শন করেছে। বরং সক্রিয় ও সুচিন্তিতভাবে তারা এই সমঝোতার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিবকে আরও অবহিত করেন যে, মার্কিন পক্ষের দ্বারা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের ৪২টি স্পষ্ট ও ভিত্তিগত দৃষ্টান্ত ইরান নথিভুক্ত করেছে।

তেহরানের রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সাধারণ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে যে ইচ্ছাকৃত আঘাত হানা হয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সমতুল্য। তিনি অভিযোগ করেন, সমঝোতা স্মারকের এই পরিকল্পিত ও পুনরাবৃত্ত লঙ্ঘন কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বিপন্ন করেনি, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করেছে। সেই সাথে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নিজের চরম অবজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধের জেরে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ জুলাই কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে ইরানের সাথে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবিধানের বিধান মোতাবেক, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ৬০ দিন ধরে ইরানে অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে। স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের ভেতর একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের কথা থাকলেও, বর্তমানে পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে এখনও একটি 'সম্ভাব্য চুক্তির' পথ খোলা আছে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উভয় পক্ষের লড়াই ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।