দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত) এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন থেকে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে। এই নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছাল। টানা পঞ্চম দিনের মতো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। নতুন মৃত তিনজন যথাক্রমে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
একই সময়সীমায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩৪ জন। এর ফলে চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ও ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৯০ জনে। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে—সংখ্যাটি ১৩১ জন, যারা রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা থেকে এসেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা মিলিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১২১ জন।
মাস অনুযায়ী মৃত্যুর হিসাব করলে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুইজন করে, মে মাসে একজন, জুন মাসে ১৩ জন এবং চলতি জুলাই মাসে এ পর্যন্ত ৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে—২২ জন। এরপর বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জন করে, খুলনা বিভাগে ৬ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, রাজশাহীতে ৩ জন এবং রংপুরে ১ জন মারা গেছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে আরও ১ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টিকে সবচেয়ে সংকটপূর্ণ ধরা হয়। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলাশয় এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপের মৌসুমি প্যাটার্ন বদলে যাচ্ছে। এখন সংক্রমণ আগেভাগে শুরু হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।




