সম্প্রতি চরকি অ্যাওয়ার্ডসে ‘পাওয়ার হাউস অব টুমরো’ খেতাব অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ সংগীতশিল্পী মাশা ইসলাম। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘টেকা পাখি’ গানটি এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তবে এটি শুধু একটি গানের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মনোনীত চারজন ‘পাওয়ার হাউস’-এর মধ্য থেকে তাকে বাছাই করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নিজের কাজের মূল্যায়ন ও সম্মান পাওয়াটা সবসময়ই আনন্দের, মন্তব্য এই শিল্পীর।

মৌলিক গান ও প্লেব্যাক—এই দুই ধারার মধ্যে কোনটিতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাশা ইসলাম জানান, তিনি সব সময় মৌলিক গানকেই অগ্রাধিকার দেন। তাঁর ভাষায়, এটি একজন শিল্পীর পরিচয় বহন করে এবং সেটি সন্তানের মতো, যা তাঁকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখে। অন্যদিকে প্লেব্যাককে তিনি ম্যাজিক্যাল অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন, বিশেষ করে যখন বড় পর্দায় কোনো তারকা তাঁর কণ্ঠে ঠোঁট মেলান—সেটি তার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।

‘সেলফ মেড তারকা’ হিসেবে পরিচিত মাশা ইসলাম বলেন, তাঁর পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৫ সাল থেকে কাজ শুরু করলেও দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে বা টেলিভিশনে কাজ করতে হয়েছে। মূলত ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমেই তিনি দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এরপরই শিল্পী মহলের নজরে আসেন তিনি। নিজের সামর্থ্যের জোরে সবার নজরে পড়তে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি কখনো সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ করেননি, বরং ভালোবাসা থেকেই কাজ করে গেছেন, যার কারণে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই মিলে গেছে।

অভিনয় জগতের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে মাশা ইসলামের। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার পর আর তেমনভাবে অভিনয়ের প্রস্তাব না পেলেও সম্প্রতি দু-একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে ভালো কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কাজ করতে করতেই শেখা যায় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করা সম্ভব।

অবসর সময়ে কী করেন? জানতে চাইলে মাশা ইসলাম বলেন, সিনেমা দেখা তাঁর প্রিয় শখ। বিশেষ করে সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সিনেমা দেখা তিনি পছন্দ করেন। সম্প্রতি ‘মাইকেল’ সিনেমাটি দেখেছেন। সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠার যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে, যা তিনি উপভোগ করেছেন। যদিও অল্প সময়ে মাইকেল জ্যাকসনের পুরো জীবন দেখানো সম্ভব নয়, তবুও সিনেমাটি তাকে মুগ্ধ করেছে।