দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলল স্পেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। তবে এই ম্যাচে স্পেনের চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে আর্জেন্টিনার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টে যেখানে আর্জেন্টিনা ১৯ গোল করেছিল, প্রতিটি ম্যাচেই কমপক্ষে দুটি গোল করে, সেখানে ফাইনালে তারা গোলপোস্টে একটিও শট নিতে পারেনি। পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার মোট শট ছিল মাত্র তিনটি, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে স্পেনের ২০টি শটের ১২টি ছিল গোলপোস্টের সঠিক লক্ষ্যে।

প্রথমার্ধেই স্পেনের কৌশলগত দাপট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামা স্প্যানিশ কোচ ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজান, যা খেলা শুরু হতেই রূপ নেয় ৪-২-৩-১-এ। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ নিচ থেকে বল নিয়ে খেলার গতি ঠিক করেন, আর দানি ওলমো আক্রমণ সাজান। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ৪-৪-২ ফরমেশন পুরোপুরি ভেঙে দেয় স্পেনের উইং প্লে। লামিনে ইয়ামাল ও অ্যালেক্স বায়েনা ডিফেন্ডারদের টেনে নিয়ে যান, আর পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া মিডফিল্ডারদের ব্যস্ত রাখেন। ফলে মাঝমাঠে চারজন নিয়েও আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়ে।

মাঝমাঠের এই নিয়ন্ত্রণই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। লিওনেল মেসি প্রথম ৩০ মিনিটে বল স্পর্শ করেন মাত্র দুবার—একবার ম্যাচ শুরুর সময়। পরিস্থিতি বদলাতে তিনি ডিফেন্সে নেমে আসেন, কিন্তু স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি তাকে আটকে দেন। আর্জেন্টিনার পাসিং চেইনও ভেঙে পড়ে। স্পেনের ৮০৩টি পাসের তুলনায় আর্জেন্টিনার পাস ছিল মাত্র ৪৪৫টি। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা কোনো ফ্লুয়েন্সি তৈরি করতে পারেনি।

আঘাতের কারণে আরও দুর্বল হয় আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। প্রথমার্ধের শেষে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও দ্বিতীয়ার্ধে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন। তাদের অনুপস্থিতিতে স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান, যা আর্জেন্টিনার জন্য শেষ ধাক্কা ছিল।

অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ফেরান তোরেস গোলটি করেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্ট থেকে বল জালে পাঠান তিনি। পুরো বিশ্বকাপে গোল মিস করে সমালোচিত তোরেস অবশেষে হিরো হয়ে উঠলেন। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে এই গোলই সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখে। গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অসাধারণ কয়েকটি সেভ না দিলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। কৌশলগত বিচারে লুইস দে লা ফুয়েন্তে এই জয়ের মূল স্থপতি। তার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দল নির্বাচন স্পেনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনির জন্য এই হার বড় প্রশ্ন হয়ে রইল।