মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে সেটিকে 'নতুন মার্কিন ভূখণ্ড' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই ঘোষণা এলো।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রণালীটির একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ইরানকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু অংশ থেকে আলাদা করা জলপথটি বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে 'নতুন মার্কিন ভূখণ্ড' লেখা হয়। পোস্টটিতে অন্য কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য ছিল না।
বিগত কয়েকদিন ধরেই ট্রাম্প এই ধরনের মন্তব্য করে আসছিলেন। শুক্রবার লং আইল্যান্ডে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি একই ঘোষণা দেন এবং সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি মনে করি এটা একটা দারুণ ধারণা।"
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ফার্সি ভাষায় এক্স-এ পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্পের এই মানচিত্রকে 'ভ্রম' এবং প্রেসিডেন্টকে 'বিভ্রান্ত মানুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই বিশেষ ভ্রমটি 'সংশোধন' করা হবে।
ইরানি নেতারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মন্তব্য অনুযায়ী, এর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং 'সব ফ্রন্টে' সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
মানচিত্রটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই ট্রাম্প আরেকটি পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, "ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না বা নির্ধারিত নেই।" তিনি দাবি করেন, প্রণালীটি এখন 'খোলা এবং কার্যকর' এবং 'সব জলমাইন অপসারণ বা বিস্ফোরণ করা হয়েছে'।
সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমি এটাকে ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটা পছন্দ করি। প্রণালীর উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে। তারা এখন উপদ্রব করতে পারে, পানিতে মাইন রাখতে পারে, আর মানুষ তাদের বিলিয়ন ডলারের জাহাজে মাইন পছন্দ করে না... কিন্তু অবরোধ খুব কার্যকর হয়েছে।" তিনি আরও দাবি করেন, "আমরা প্রতি সপ্তাহে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল বের করে নিচ্ছি," এবং "তেলের দাম কমছে, এবং আমরা আরও কঠোর কিছু করার সিদ্ধান্ত না নিলে সেগুলো কমতেই থাকবে।"
মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের বেশি হয়েছে, যা জুলাই মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ।




