মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান প্রকল্প নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। ব্রিফিংয়ের শুরুতেই তিনি সরকারের মূল অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়; এই সম্পর্ক হবে পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে জয়সোয়াল কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ওসমান হাদির হত্যাকারী এবং পলাতক অন্য আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শর্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে নতুন কিছু বলার নেই। ভারতের অবস্থান আগের মতোই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা অনুরোধ দেশের বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ নিয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জয়সোয়াল পুরোনো ব্যাখ্যাই নতুন করে দেন। তিনি বলেন, ভারতে বর্তমানে জ্বালানির মজুতের অবস্থা, শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা—এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে বাড়তি জ্বালানি দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ থমকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। বরং পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লি এমন একটি সম্পর্ক চায় যা উভয় পক্ষের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে গড়ে উঠবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভারতীয় উপমহাদেশে আল–কায়েদার বিস্তার এবং বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জয়সোয়ালের মন্তব্য, সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা প্রত্যেকের জন্যই উদ্বেগের কারণ। তিনি আহ্বান জানান, এই বিপদের মোকাবিলায় হাত হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ওই প্রতিবেদনে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, সেই শক্তিগুলোর হাতেই নয়াদিল্লির লালকেল্লায় আক্রমণ পরিচালিত হয়েছিল।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন এবং ওই প্রকল্পে চীনের আগ্রহ সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে। জানতে চাওয়া হয়, তিস্তা নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ আলাদাভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে কি না, কিংবা চীনের আগ্রহ নিয়ে নয়াদিল্লি ঢাকাকে কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না। জয়সোয়াল এসব প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব না দিয়ে শুধু বলেন, দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। এভাবে ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান প্রকাশ পেলেও কিছু বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য এড়িয়ে কৌশলী ভাষায় সরকারের নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন জয়সোয়াল।




