যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ফেবল ৫ ও মিথস ৫-এর ওপর অভূতপূর্ব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের মডেল বাজার থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে, যখন আমাজনের গবেষকরা ফেবল ৫-এ একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা আবিষ্কার করেন। এই দুর্বলতা সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে সাইবার আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য আহরণের সুযোগ করে দেয়।
আমাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি বিষয়টি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের জানালে পরিস্থিতি দ্রুত ঘনীভূত হয়। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাথে আলোচনার পর বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক কঠোর অবস্থান নেন। অ্যানথ্রপিককে স্বল্প সময়সীমার মধ্যে দুর্বলতা মেরামত বা মডেল প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দেয় যে, এই ধরনের দুর্বলতা এআই শিল্পে সাধারণ, কিন্তু প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় অ্যানথ্রপিক আনুষ্ঠানিকভাবে মডেল দুটি অফলাইন করার কথা ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত পুরো শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং নতুন মডেল উদ্ভাবনে বাধা সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, প্রশাসন মনে করে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।
এর আগেও অ্যানথ্রপিকের সাথে প্রশাসনের সম্পর্ক টানাপোড়েন ছিল। পেন্টাগনের সাথে চুক্তি নিয়ে বিরোধ এবং এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অ্যানথ্রপিকের অবস্থান প্রশাসনের নজর এড়ায়নি। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা এই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, এটি প্রথম সংশোধনীর অধীনেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে অ্যানথ্রপিক ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে, এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় অ্যানথ্রপিকের একজন কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন যে খুব শিগগিরই মডেলগুলো পুনরায় উপলব্ধ হবে।




