সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস করে কোনো স্বাস্থ্যপণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। অনলাইনে ওষুধ বা পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কিংবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ডিবি। কারণ সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় দেশের একজন পরিচিত ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জনের ছবি, নাম ও পরিচয় নকল করে ভুয়া পণ্য বিক্রি করছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়াচ্ছে।
এই চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গল ও বুধবার চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি এবং পাঁচলাইশ থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে ডিএমপির ডিবি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তানভীর আলম ওরফে রাহাত (২৩) এবং মো. নুর নবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিরা একটি সুসংগঠিত প্রতারক দলের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা ফেসবুকে অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পেজ ও হিসাব খুলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। পরবর্তীতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করা হতো এবং তা প্রচার করা হতো।
এসব ভিডিও ও প্রচারিত লেখায় প্রোস্টেট সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অননুমোদিত ওষুধের প্রচার ও বিক্রি চালানো হতো। জনপ্রিয় চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে ডিবির এই কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে আইনগত প্রতিকারের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন দল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন, চারটি সিম এবং সাতটি ভুয়া ভেষজ পুষ্টিকর পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনও অব্যাহত আছে বলে জানানো হয়েছে।
ডিবি আরও পরামর্শ দিয়েছে, যদি কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, তবে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে। অনলাইনে প্রচারিত কোনো চিকিৎসা সামগ্রী কেনার আগে তার বৈধতা ও অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; অন্যথায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনাও থেকে যায়। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করে কোনো ওষুধ কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ।




