ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি এবং ফাস্ট বোলার আলজারি জোসেফের মধ্যে চলমান টেস্ট সিরিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কোচের এক মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে জোসেফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করেন, স্যামির ব্যক্তিগত দলের নন।

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের দল থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গটি সূত্রপাত হয় ২৩ জুলাই দল ঘোষণার সময়। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)-র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোসেফের না থাকার কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করা হয়। কিন্তু পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে স্যামি দাবি করেন, জোসেফ স্বয়ং দলের অংশ হতে রাজি হননি। স্যামি বলেছিলেন, “জোসেফ নিজেই দলে থাকতে চায়নি। এটাই বাস্তবতা। তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল। চোট থেকে ফিরছিল সে। এরপর নানা কারণে সে থাকতে চায়নি।”

এই বক্তব্যের জের ধরে অ্যান্টিগা অবজারভারের ‘গুড মর্নিং জোজো স্পোর্টস শো’তে মুখ খোলেন জোসেফ। তিনি এই মন্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “প্রধান কোচের সঙ্গে আলোচনার পর এবং সিডব্লিউআইয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে পরিষ্কার করেই ‘ব্যক্তিগত কারণ’ বলা হয়েছিল। স্যামি দীর্ঘসময় ধরে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি পুরোপুরি জানেন, এরকম একটি বিবৃতির প্রভাব কী হতে পারে। তাই এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই। তিনি জানেন জনসমক্ষে তাঁর কথায় কোন ধরনের বার্তা যাবে।”

নিজের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যায় জোসেফ বলেন, পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের আঘাতের কারণেই তিনি সাবধানী অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই আঘাতের কারণে তাকে ভারত ও নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে পড়তে হয়। প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর গত জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে তিনি পুনরায় ফেরেন।

জোসেফ আরও বিশদ জানান, “একটি পুরো বছর আমি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি ছিল। তারপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচটি ওয়ানডে খেলা এবং ঘরের মাটিতে দুটি টেস্ট—শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ছিল। আমিই উপলদ্ধি করি, আরেকটি টেস্ট সিরিজের জন্য আমার শরীর তৈরি নয়। সুতরাং ওই বক্তব্যই প্রস্প বহির্ভূত একটি বিতর্কিত মন্তব্য।”

স্যামির অভিযোগ ও তার প্রত্যুত্তরের পর এই দুইজনের ভবিষ্যতে সম্পর্ক এবং একসঙ্গে কাজ করা প্রসংগে জোসেফ পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেন। তার মতে, “আমি পেশাদার, আমি কাজে যোগ দেব। আমি এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করতে আসি, ড্যারেন স্যামির নই। তাই পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি আমার জন্য মুখ্য নয়। আমি বন্ধু গড়তে যাই না। আমি যাই দায়িত্ব পালন এবং দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাটাই মুখ্য।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। আগামী রোববার থেকে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। এই সিরিজ শেষে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ক্যারিবিয়ান দল ভারত সফরে সীমিত ওভারের সিরিজে অংশ নেবে।