আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ রোববার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী আশিক উল আকবর পুনরায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় করা এই মামলায় তিনি আগের জবানবন্দির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেন।

জবানবন্দিতে আশিক উল আকবর জানান, চশমা ব্যবহার করেও তাঁর ডান চোখে স্পষ্ট দেখা যায় না, সবকিছু কাটা কাটা মনে হয়। একজন সুস্থ মানুষের চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ হয়ে থাকে, কিন্তু তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি বর্তমানে চশমাসহ ৬/৬০-এ নেমে এসেছে, যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। এর আগে ১৩ আগস্ট তারিখের জবানবন্দিতে গুমকালীন সময়ে তাঁর ডান চোখে নির্যাতন চালানোর কথা জানিয়েছিলেন এই সাক্ষী।

আজকের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম আশিককে জেরা করেন। জেরার জবাবে আশিক বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ বা কাগজপত্র তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারেননি। কারণ, তিনি গুম হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই সব কাগজপত্র নষ্ট করে ফেলেছেন। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিবিরের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে সাথী হওয়ার বিষয়ে কোনো প্রত্যয়নপত্রও তিনি সংগ্রহ করেননি।

এ সময় আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, আশিক জেএমবি নামের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিলেন কি না। তবে তিনি তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেন এবং বলেন, ‘ইহা সত্য নহে।’ জেরার একপর্যায়ে আশিক উল আকবর আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো থেকে রক্ষা পেতে তিনি কোনো মিথ্যা গল্প সাজাননি—এই অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, র্যাবের টিএফআই সেলে গুমের এই মামলায় মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। তারা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

অপরদিকে, এই মামলার বাকি সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও পরে আইজিপি হওয়া বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।