জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্টদের বিচার অবশ্যই হবে, তবে তা হবে স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচারসম্মত — যাতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহের অবকাশ না থাকে। রোববার দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারকাজ সম্পাদনে সরকার ইতিমধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে, তা পেতে গিয়ে ১ হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি তরুণ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্র নিয়ে কোনো রকম ছেলেখেলা বা ফ্যাসিস্টদের পুনরুত্থানের পথ সুগম করার সুযোগ নেই। প্রতিটি খুন, প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বিচার প্রক্রিয়া গোপন নয় বরং জনসমক্ষে ও আইনের চোখে স্বচ্ছ হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের হাতে রয়েছে কঠিন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। তিনি জনগণের терпение ধারণ করার অনুরোধ জানান। বেগম খালেদা জিয়ার ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী ডাকের কথা স্মরণ করে আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ নানা বাধা পেরিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে।

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, শুধু বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখেরও বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। এমনকি যাঁরা ২০ বছর আগে মারা গেছেন, তাঁদেরও সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্বৈরাচার হাসিনার শাসনামলে দলের ৪ হাজার ৫০০ সহযোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ৭০০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারপ্রধান তারেক রহমানের প্রতি সবাইকে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও সরকার নানা সমাধানের পথ খুঁজছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশে আইনের সংকট তৈরি করেছিল এবং তখন আইনের শাসন বলতে কিছুই ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (ইমন)। আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী হায়দার বাবুল ও আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিনসহ আইনজীবী নেতারা।