শরীর সুস্থ রাখতে পানি খাওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেকে এই প্রয়োজনীয় দিকটি উপেক্ষা করেন। অফিসের মিটিং, ফোনকল আর কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে অনেক সময় দুপুর পেরিয়ে গেলেও পানি খাওয়ার কথা মনে পড়ে না। এমন পরিস্থিতিতে পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ৯টি সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।

সর্বপ্রথম নিজের শরীরের কতটুকু তরল প্রয়োজন তা বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী দিনে ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কিন্তু এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিন (ন্যাম) পুরুষদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩.৬৯ লিটার (২৫ গ্লাস) এবং নারীদের জন্য প্রায় ২.৬৬ লিটার (সোয়া ১১ গ্লাস) তরল গ্রহণের সুপারিশ করে, যার মধ্যে অন্যান্য পানীয় ও খাবার থেকে পাওয়া তরলও অন্তর্ভুক্ত। তবে শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, বসবাসের স্থান ও স্বাস্থ্য অবস্থার ওপর এই প্রয়োজন নির্ভর করে। অধিকাংশ মানুষের জন্য তৃষ্ণা মেটানোর মতো পানি খাওয়াই যথেষ্ট। নিয়মিত ব্যায়ামকারী বা গরম আবহাওয়ায় কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো উচিত।

পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়তে দৈনিক লক্ষ্য নির্ধারণ কার্যকর হতে পারে। লক্ষ্যটি হতে হবে স্মার্ট (নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, অর্জনযোগ্য, বাস্তবসম্মত ও সময়সীমাবদ্ধ)। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিদিন ৯৬০ মিলিলিটার বা প্রায় ৪ গ্লাস পানি খাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা যেতে পারে। নিজের অগ্রগতি ট্র্যাক রাখতে কতটুকু পানি খাওয়া হচ্ছে তা লিখে রাখাও ভালো অভ্যাস। ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হবে।

বাইরে বের হওয়ার সময় মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও চাবির মতো পানির বোতলও সঙ্গে রাখা উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা গরম আবহাওয়ায় পানির বোতল কাছে থাকলে প্রয়ােজনমতো পানি খাওয়া সহজ হয়। ডেস্কে বা চোখের সামনে পানির বোতল রাখলে পানি খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। পানির কথা ভুলে যাওয়া রোধে ফোন, স্মার্টওয়াচ বা অ্যাপে রিমাইন্ডার সেট করা যেতে পারে। প্রতি ৩০ মিনিট পর কিছু ঢোক পানি খাওয়া বা প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি শেষ করার অ্যালার্ম দিনে বেশ কার্যকর। ব্যস্ত সময়ে ভুলে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এই পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী।

খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করলে দিনে অতিরিক্ত প্রায় ৭২০ মিলিলিটার তরল গ্রহণ করা হবে। অনেক সময় তৃষ্ণা ও ক্ষুধার মধ্যে পার্থক্য করা যায় না, তাই খাবারের আগে পানি খেলে প্রকৃত ক্ষুধা বা তৃষ্ণা কোনটি তা বোঝা সহজ হয়। পানি খেতে একঘেয়ে লাগলে লেবু, শসা, স্ট্রবেরি বা পছন্দের ফলের টুকরো যোগ করা যেতে পারে। তবে বাজারে থাকা স্বাদ বাড়ানোর পাউডার বা তরল উপাদানে চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি থাকতে পারে, তাই প্রাকৃতিক উপাদানই উত্তম।

কর্মস্থলে প্রতি ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। অফিসে ঢুকে গ্লাসে পানি নিয়ে প্রতি ঘণ্টার শুরুতে তা শেষ করে নতুন করে ভরে নিলে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত হবে। একবারে প্রচুর পানি না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে পান করাও স্বাস্থ্যকর। ডেস্কে বা হাতের কাছে বোতল রাখলে চোখে পড়লেই কয়েক ঢোক পানি খাওয়া যায়। এতে মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়তা হয়। সবশেষে, ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। সকালে ঠান্ডা পানি ঘুম কাটাতে সহায়ক, আর রাতে পানি খেলে মুখের শুষ্কতা ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ কমে।