চীনা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নির্মাতা স্টিফেন চৌ দীর্ঘ বিরতির পর পরিচালনায় ফিরেছেন। তাঁর নতুন ছবি 'কুংফু সকার' মাত্র তিন সপ্তাহের কম সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তি পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি ছবির মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেন। এই ভিন্নধর্মী বিপণন কৌশল দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ছবিটি চীনের বক্স অফিসে তুমুল ঝড় তুলেছে। ১৭ থেকে ১৯ জুলাই সপ্তাহান্তে 'কুংফু সকার' আয় করেছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, যা ৫০ কোটি ১১ লাখ ইউয়ানের সমান। প্রথম সপ্তাহে ছবিটির মোট আয় ছিল ১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার (১০০ কোটি ইউয়ান)। মুক্তির নয় দিনেই মোট আয় ছাড়িয়েছে ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সাধারণত দ্বিতীয় সপ্তাহে চীনা ছবির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, কিন্তু 'কুংফু সকার' সেই ধারা ভেঙে প্রথম সপ্তাহের সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই গতি বজায় থাকলে ছবিটি শেষ পর্যন্ত ৪৪ কোটি ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে। চীনের জনপ্রিয় টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম মাওইয়ান তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ইউয়ান (প্রায় ৪৪ কোটি ১০ লাখ ডলার) করেছে। তবে স্টিফেন চৌয়ের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ বক্স অফিস রেকর্ড 'দ্য মারমেইড' (২০১৬) যেটি ৩৩৯ কোটি ইউয়ান আয় করেছিল, সেটি ছাড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

'শাওলিন সকার' মুক্তির ২৫ বছর পূর্তি এবং চলমান ফিফা বিশ্বকাপের আবহকে সামনে রেখে নির্মিত হয়েছে 'কুংফু সকার'। ছবির গল্পে একদল অবহেলিত নারী ফুটবলার মার্শাল আর্টের কৌশল ব্যবহার করে 'সুপ্রিম ইনভিন্সিবল কাপ' টুর্নামেন্টে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করে। দলের অধিনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঝ্যাং শিয়াওফেই। তারকা স্ট্রাইকার চরিত্রে আছেন দিলরাবা দিলমুরাত, আর কুংফু কোচের ভূমিকায় লে ঝ্যাং। বিশেষ উপস্থিতি রয়েছে হংকংয়ের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ক্যারিনা লাউ, জাপানি অভিনেতা তাকেরু সাতোহ এবং মার্কিন কৌতুক অভিনেতা জিমি ও. ইয়াং-এর। ৬৪ বছর বয়সী চৌ ছবিটির চিত্রনাট্যও লিখেছেন, তবে ২০০৮ সালের 'সিজে৭'-এর পর তিনি অভিনয় থেকে দূরে থাকায় এবার পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে।

একই সপ্তাহান্তে চীনে মুক্তি পেয়েছে রাষ্ট্রীয় সমর্থিত পার্ল স্টুডিওর অ্যানিমেশন 'অল উইশেস কাম ট্রু'। চীনা লোককাহিনি নির্ভর এই ছবিটি দুই দিনে আয় করেছে ৩ কোটি ৬ লাখ ডলার, প্রিভিউসহ মোট আয় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। আগস্টে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। নারীবন্ধুত্বের গল্প নিয়ে নির্মিত 'আ পার্ট অব মি' প্রথম সপ্তাহে ১ কোটি ৩৬ লাখ ডলার আয় করেছে। 'মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টারস' তৃতীয় সপ্তাহে আরও ৩৭ লাখ ডলার যোগ করে মোট সংগ্রহ ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নিয়ে গেছে। ২০০৯ সালের কাল্ট থ্রিলার 'ট্রায়াঙ্গল' ১৭ বছর পর চীনে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করেছে ৩৭ লাখ ডলার।

চীনের ২০২৬ সালের মোট বক্স অফিস আয় এখন ২৯৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম। বছরের শুরুতে ঘাটতি ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ, কিন্তু স্টিফেন চৌয়ের প্রত্যাবর্তন সেই ব্যবধান অনেক কমিয়ে এনেছে। গ্রীষ্মকালীন চলচ্চিত্র মৌসুমে এই সাফল্য নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে হলিউডের হরর ছবি 'অবসেশন' আগামী শুক্রবার চীনে মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ৪০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা ছবিটি চীনা দর্শকের হলিউডের নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা কতটা, তা পরীক্ষা করবে।

'কুংফু সকার'-এর আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এনকোর ফিল্মস, যারা আগে চীনের ব্লকবাস্টার অ্যানিমেশন 'নে ঝা ২' বিতরণ করেছিল। চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর আমেরিকায় ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।