মধ্যবিত্তের সীমানা পেরিয়ে ধনী শ্রেণিতে উঠতে চাইলে একজন সাধারণ কর্মীকে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সঞ্চয় করতে হবে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। অক্টোবর ২০২৫ সালে প্রকাশিত রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্রিটিশদের জন্য ধনত্বের সিঁড়ি বেয়ে ওঠা এক প্রায় অসম্ভব স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত থেকে বেরিয়ে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশের কাতারে পৌঁছাতে একজন গড় কর্মীকে ৫২ বছর ধরে নিজের সমস্ত উপার্জন জমিয়ে ১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ডলার) সংগ্রহ করতে হবে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, এই হিসাবটি কোনো ব্যয় না ধরেই করা হয়েছে। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক মলি ব্রুম লিখেছেন, ‘ব্রিটেনে সম্পদের ব্যবধান এতটাই প্রকট যে একজন পূর্ণকালীন কর্মী তার পুরো কর্মজীবনের উপার্জন জমালেও সম্পদের শীর্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন না।’ যারা শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তাদের জন্য এই অসমতা আরও বেশি প্রকট। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনে সম্পদের গতিশীলতা খুবই কম। যারা ধনী জীবন শুরু করে তারা সাধারণত ধনীই থাকে, এবং যারা দরিদ্র শুরু করে তারাও দরিদ্রই থাকে।’ প্রচলিত প্রবাদ ‘টাকা টাকা আনে’-এর মতোই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদ বৈষম্যের মূল চালিকাশক্তি হলো ‘প্যাসিভ’ আয়। যারা ২০১০ সালের পর থেকে সম্পত্তি কিনেছেন বা বিনিয়োগ করেছেন, তাদের সম্পদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে গেলে ৭০ বছর ধরে সঞ্চয় করতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি যখন জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর চাকরির সংকট ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে, তখন ধনী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এই সমস্যা শুধু ব্রিটেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও কর্মীরা ধনী বোধ করতে কমপক্ষে ২.৩ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে মনে করেন (যা দুই বছর আগের তুলনায় ১ লাখ ডলার বেড়েছে)। এছাড়াও, একটি পৃথক গবেষণা অনুসারে, আমেরিকান ড্রিম অর্জনে (শহরতলির বাড়ি, দুই সন্তান, বার্ষিক ছুটি ও একটি নতুন গাড়ি) ৪.৪ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। ইনভেস্টোপিডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে বেশিরভাগ আমেরিকানের সারাজীবনের উপার্জনের চেয়ে ১০ লাখ ডলার বেশি খরচ হবে। লেবার স্ট্যাটিস্টিকস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণকালীন কর্মীদের সাপ্তাহিক গড় আয় ১,২৫১ ডলার, তাই ২.৩ মিলিয়ন ডলার জমাতে ৩৫ বছরের বেশি সময় লাগবে—একটি পয়সা ব্যয় না করলেও। আর আমেরিকান ড্রিমের ৪.৪ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে একজন গড় আমেরিকান কর্মীকে প্রায় ৭০ বছর ধরে কোনো খরচ ছাড়াই কাজ করতে হবে—যা অধিকাংশ মানুষের কর্মজীবনের চেয়ে অনেক বেশি। এই হিসাব মুদ্রাস্ফীতি, অপ্রত্যাশিত আর্থিক ধাক্কা বা ভবিষ্যতে অটোমেশনের প্রভাব বিবেচনা না করেই করা হয়েছে। ফরচুন.কমে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল।
মধ্যবিত্ত থেকে বের হতে গড় কর্মীর ৫২ বছরের সঞ্চয় প্রয়োজন: গবেষণা
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটেনে গড় কর্মীকে ধনী হতে নিজের পুরো আয় ৫২ বছর জমাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রেও আমেরিকান ড্রিম পূরণে ৭০ বছর সময় লাগতে পারে। সম্পদের এই বৈষম্য উত্তরোত্তর বাড়ছে বলে জানিয়েছে রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন।



