বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর কুমার মিত্রের আজ ১৮ আগস্ট জন্মদিন। ১৯৪১ সালের এই দিনে চাঁদপুরের নতুনবাজার গুয়াখোলায় মামার বাড়িতে তার জন্ম হয়। পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠা এই শিল্পী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চার শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে মজার বিষয় হলো, অভিনয় ছিল না তার প্রথম পছন্দ।
প্রায় এক দশক আগে ইউরো বিডিনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করে প্রবীর মিত্র জানিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন মূলত একজন ক্রীড়াবিদ। ঢাকার পোগোজ স্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রথম বিভাগে ক্রিকেট ও হকি খেলতেন। এছাড়া ফুটবলও খেলতেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক জগতে তার আসার কথা ছিল না; তিনি ছিলেন স্পোর্টসম্যান। সারা বছর মাঠে পড়ে থাকতেন এবং খেলাধুলা করতেন। তবে ফুটবলে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে উঠে যাওয়ার পর বাসা থেকে তাকে খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে আর খেলা চালিয়ে যাননি তিনি।
অভিনয় জগতে প্রবীর মিত্রের প্রবেশ স্কুলজীবনেই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে প্রয়াত পরিচালক এইচ আকবরের 'জলছবি' চলচ্চিত্রে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি; ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নায়ক হিসেবে কাজ করলেও পরে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তিনি অমর হয়ে আছেন দর্শকদের মনে।
তার অভিনয় জীবনের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'জীবন তৃষ্ণা', 'সেয়ানা', 'জালিয়াত', 'ফরিয়াদ', 'রক্ত শপথ', 'চরিত্রহীন', 'জয়-পরাজয়', 'অঙ্গার', 'মিন্টু আমার নাম', 'ফকির মজনু শাহ', 'মধুমিতা', 'অশান্ত ঢেউ', 'অলংকার', 'অনুরাগ', 'প্রতিজ্ঞা', 'তরুলতা', 'গাঁয়ের ছেলে' এবং 'পুত্রবধূ'।
জীবনের শেষ দিকে ছোট ছেলের অকাল মৃত্যু তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার শিল্পকর্ম দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। আজ তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করছেন অসংখ্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী।




