বিনোদন জগতের অন্যতম বৃহৎ একীভূতকরণ চুক্তি, প্যারামাউন্ট স্কাইডান্যের ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি অধিগ্রহণ, যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সবুজ সংকেত পেয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির অ্যান্টিট্রাস্ট সংস্থা এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক লেনদেনের পথে থাকা আরও একটি প্রধান বাধা দূর করলেন, যদিও ব্যাপক প্রতিযোগিতা বিরোধী উদ্বেগের মুখে প্যারামাউন্ট ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই চুক্তির চূড়ান্ত সমাপ্তি পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্যারামাউন্টের এই অধিগ্রহণ চুক্তিটি আরও গভীর নিয়ন্ত্রণ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানোর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের রায়ে বলা হয়েছে, এই লেনদেন প্রতিযোগিতার জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করে না। একইসঙ্গে, যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লিসা ন্যানডিও এই চুক্তিতে হস্তার করবেন না বলে ঘোষণা দেন। প্যারামাউন্টের দেওয়া কিছু "আশ্বাস" ও "আইনত বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার" উল্লেখ করে তিনি তার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। এর মাঝে অন্যতম ছিল মূল পরিষেবাগুলোর "স্বতন্ত্র সাংবাদিকতাপূর্ণ পরিচিতি" ও সংবাদকেন্দ্রগুলোর সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি।

চুক্তিটি কার্যকর হলে প্যারামাউন্ট একইসঙ্গে চ্যানেল ফাইভ নিউজ এবং সিএনএন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করবে। ব্রিটিশ সরকারি কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে যে, প্যারামাউন্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চ্যানেল ফাইভ নিউজ তার সম্পাদকীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং এর সম্পাদকীয় দিকনির্দেশনা সিবিএস নিউজ ও সিএনএন ইন্টারন্যাশনালের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।

প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে সংবাদ নেটওয়ার্কগুলোর সম্পাদকীয় স্বাধীনতার এই নিশ্চিতি দেওয়ার প্রেক্ষাাপটে, কোম্পানিটির প্রধান নবীয় নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) ডেভিড এলিসন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন লিখেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক লেখায় তিনি বলেন, ওয়ার্নারের সঙ্গে তার কোম্পানির চুক্তিটি যাচাই-বাছাইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে "আমাকে ওয়ার্নারের সিএনএনের অভিভাবক হিসেবে বিশ্বাস করা যায় কিনা"। তিনি স্বীকার করে বলেন, "আমার রাজনীতি, আমার আনুগত্য, আমার উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা" চলছে। তবে তিনি দাবি করেন, "আমি কাউকেই আমার হৃদয় ও মনের দৃষ্টি দিতে পারি না," তবে তিনি নিয়মিতই উভয় দলের প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছেন এবং কিছু মতামতকে "রক্ষণশীল" ও কিছুকে "উদারনৈতিক" বলা যেতে পারে, ঠিক অধিকাংশ আমেরিকানের মতো। তিনি লেখেন, "আমাদের সাংবাদিকরা কেবল তথ্যের প্রতি এবং তারা যে সকলের প্রতি দায়বদ্ধ- কোনো দল বা আদর্শের প্রতি নয়।"

উল্লেখ্য, যদি ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এই চুক্তির শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে প্যারামাউন্ট ১.৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিলম্ব ফি পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে।

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন প্যারামাউন্টের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গত মাসেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইই) অনুমোদনের পর এই দ্বিতীয় বড় সাফল্য এটি। ইউরোপীয় কমিশনের অভিমত ছিল, কিছু ছাড় দেওয়ার পর প্যারামাউন্ট তাদের চুক্তির প্রতিযোগিতামূলক উদ্বেগগুলি "সম্পূর্ণরূপে সমাধান" করেছে। এর মধ্যে ইউরোপের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল পিকচার্সের সঙ্গের একটি চলচ্চিত্র বিতরণ যৌথ উদ্যোগের অংশীদারি বিক্রয়ের সম্মতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই একীভূতকরণ ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের মোকাবিলা করছে, যার মধ্যে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা এবং ১২ জন অ্যাটর্নি জেনারেল চুক্তিটি প্রতিরোধে মামলাও দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এই চুক্তির ফলস্বরূপ "চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে উচ্চমূল্য, নিম্নমান ও বিষয়বস্তুর সংকোচন" দেখা দিবে। বিচারক এই মামলার রায় না দেওয়া পর্যন্ত প্যারামাউন্ট তাদের চুক্তিটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে রাখতে সম্মত হয়েছে।