চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান ১ম পত্রে পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত নম্বর বণ্টন অনুসারে এই বিষয়ে সৃজনশীল অংশে ৫০, বহুনির্বাচনি অংশে ২৫ এবং ব্যবহারিক অংশে ২৫ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বহুনির্বাচনি অংশে প্রতিটি অধ্যায় থেকে কমপক্ষে দুটি করে প্রশ্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ এবং চিত্রের বিভিন্ন অংশ আন্ডারলাইন করে ভালোভাবে আত্মস্থ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই অংশে ২৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং সময় বরাদ্দ থাকবে ২৫ মিনিট।

সৃজনশীল অংশে আটটি প্রশ্ন থেকে পাঁচটির উত্তর দিতে হবে, যেখানে সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১০ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বর নির্ধারিত। কোষ ও এর গঠন, কোষ বিভাজন, কোষ রসায়ন, অণুজীব, শৈবাল ও ছত্রাক, ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা, নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, উদ্ভিদ প্রজনন ও জীবপ্রযুক্তি অধ্যায়গুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জীববিজ্ঞানে উত্তর প্রদানের সময় চিত্র আঁকার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনেক শিক্ষার্থী চিত্র ছাড়াই মুখস্থ করার চেষ্টা করে, যা সঠিক নয়। চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পুরো বিষয় বুঝে পড়লে তা সহজেই মনে থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

সৃজনশীল অংশে ‘ক’ নম্বর প্রশ্নটি জ্ঞানমূলক, যেখানে পাঠ্যপুস্তকের কোনো সংজ্ঞা জানতে চাওয়া হয়। যেমন—মেটাকাইনেসিস কাকে বলে? সঠিক সংজ্ঞা লিখলে পূর্ণ ১ নম্বর পাওয়া যাবে। ‘খ’ নম্বর প্রশ্নটি অনুধাবনমূলক, যেখানে কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে হয়। যেমন—মাইটোসিসের কোন ধাপে ক্রোমোজোমীয় নৃত্য পরিলক্ষিত হয়? সঠিক ধাপ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করলে ২ নম্বর পাওয়া যাবে। ‘গ’ নম্বর প্রশ্নটি প্রয়োগমূলক, যেখানে উদ্দীপকের চিত্র চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করতে হয়। যেমন—মিয়োসিস প্রোফেজ-১–এর লেপ্টোটিন উপপর্যায়কে P দ্বারা চিহ্নিত করলে, সেটি চিত্রসহ ব্যাখ্যা করতে হবে। চিহ্নিত করতে পারলে ১, চিত্র অঙ্কনে ২ এবং ব্যাখ্যা করলে মোট ৩ নম্বর পাওয়া যাবে। ‘ঘ’ নম্বর প্রশ্নটি উচ্চতর দক্ষতাভিত্তিক, যেখানে দুটি উপপর্যায়ের তুলনা ও বিশ্লেষণ করতে হয়। যেমন—Q ও R উপপর্যায়ের মধ্যে জীবের বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনে কোনটি অধিকতর ভূমিকা রাখে? সঠিক উপপর্যায় চিহ্নিত, বৈশিষ্ট্য বর্ণনা ও ক্রসিংওভার সম্পর্কিত ধারণা উল্লেখ করে মতামত প্রতিষ্ঠা করতে পারলে পূর্ণ ৪ নম্বর মিলবে।

উত্তর প্রাসঙ্গিক ও সময়মতো শেষ করার জন্য সময় ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লেখা শেষে উত্তরপত্র রিভিশন করে ভুল সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক, সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা থেকে এ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।