কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে যে ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে, তা অনেককে ভুল পথে পরিচালিত করছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী রুবা বোরনো। তিনি বলেছেন, এআইকে 'সহকর্মী' বা 'দলের সদস্য' হিসেবে ভাবার পরিবর্তে এটিকে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে দেখা উচিত। ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, নতুন প্রযুক্তি মানুষের সেরা প্রতিভাকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে, প্রতিস্থাপন করেনি।

১৯৬১ সালে পোল ভল্টে ধাতব দণ্ডের বদলে ফাইবারগ্লাসের দণ্ড ব্যবহার শুরু হলে এক দশকের মধ্যে ১৯ বার বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছিল। সাইক্লিংয়ের ইতিহাসে উন্নত এরোডাইনামিকসের কারণে কর্মক্ষমতার প্রায় অর্ধেক উন্নতি হয়েছে। গ্রাফাইট র্যাকেট টেনিস খেলাকে বদলে দিয়েছে। পলিউরেথেন সুইমস্যুট এতটাই কার্যকর ছিল যে শেষ পর্যন্ত তা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবে সেই দুই বছরে গড়া কিছু রেকর্ড এখনো অটুট। কোনো প্রযুক্তিই কিন্তু নিজে থেকে প্রতিযোগিতা করেনি, পদক জিতেনি বা চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বোরনো, যিনি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীদার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বলেছেন এআই মানুষের বিকল্প নয়। এটি সেই ফাইবারগ্লাস দণ্ড বা গ্রাফাইট র্যাকেটের মতো, যা মানুষের সেরা প্রতিভাকে এমন উচ্চতায় পৌঁছে দেয় যা আগে সম্ভব ছিল না। তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার মূল বাধা ছিল কার্যকর করা। কোনো সাহসী ধারণা বাস্তবায়নে মাসের পর মাস কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। এআই সেই সীমাবদ্ধতা দূর করেছে।

নিজের প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং দলগুলোর বার্ষিক পণ্য প্রকাশের হার ১.৬৫ গুণ বেড়েছে এবং উৎপাদনে যাওয়ার সময় ২১ শতাংশ উন্নত হয়েছে। কোড পরিবর্তনের ৭৬ শতাংশের বেশি এখন এআই-সহায়তায় হচ্ছে। তাদের এআই কোডিং সহকারী 'কিরো' ব্যবহার করে প্রতিটি কর্মী এখন ওয়ার্কফ্লো তৈরি, তথ্য সাজানো এবং প্রশাসনিক কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারছে।

ওয়ার্ল্ড সার্ফ লিগের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখান, ৫০ বছর ধরে খেলার পারফরম্যান্সের তথ্য ১৯৭০-এর দশকের স্প্রেডশিটে চাপা পড়ে ছিল। সম্প্রচারকেরা প্রতিটি সম্প্রচারের আগে খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতেন। অলক্লাউডের সাথে কাজ করে লিগটি সব তথ্য একটি রিয়েল-টাইম এআই প্ল্যাটফর্মে একীভূত করেছে, যার ফলে সম্প্রচার প্রস্তুতির সময় ৮০ শতাংশ কমেছে। সম্প্রচারকারীরা এখন স্প্রেডশিট খোঁজার বদলে গল্প বলায় মন দিতে পারছেন।

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কথাও উল্লেখ করেছেন বোরনো। প্রতিদিন পাঁচ লাখের বেশি যাত্রী বিভিন্ন রুট ও সময়সূচিতে ভ্রমণ করে। কয়েক বছর আগে বিমান সংস্থাটি দেরি হলে যাত্রীদের রিয়েল-টাইম ব্যাখ্যা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ধারণাটি জনপ্রিয় হলেও হাতে লেখা উত্তর এত জটিলতায় স্কেল করা সম্ভব ছিল না। আজ এআই সেই বিলম্বের বার্তাগুলোর অর্ধেকের বেশি খসড়া তৈরি করে। ফলাফলে মানুষ কমেনি, বরং মানুষের ডিজাইন করা অভিজ্ঞতা এমন একটি পরিমাণে পৌঁছেছে যা কোনো দলের পক্ষে আগে সম্ভব ছিল না।

ফাইবারগ্লাস দণ্ড আবিষ্কারের পর কোনো পোল ভল্টার আর পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যায়নি। প্রযুক্তি শুধু নতুন রেকর্ডই সক্ষম করেনি, সবার জন্য মানদণ্ডও বাড়িয়ে দিয়েছে। এআই এখন প্রতিটি শিল্পে একই কাজ করছে। বোরনো মনে করেন, এআই ছাড়া প্রতিযোগিতা করার চেষ্টা কাঠের টেনিস র্যাকেট নিয়ে গ্র্যান্ড স্লামে নামার মতো। কিন্তু অনেক কোম্পানি এখনও এআইকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে — 'কতজন মানুষকে প্রতিস্থাপন করা যায়?' এই কাঠামোটি পুরোপুরি ভুল। এআই টেবিলে আসন নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে না, এটি টেবিলটাই বদলে দিচ্ছে।

যে কোম্পানিগুলো এগিয়ে যাচ্ছে তারা কম মানুষের সাথে একই কাজ কীভাবে করা যায় তা নিয়ে ভাবছে না। তারা বড় প্রশ্ন করছে: আমাদের মানুষ এখন কী অর্জন করতে পারে যা আগে পারত না? বর্তমান মানদণ্ড কোথায় এবং কীভাবে আমরা তা এমন উচ্চতায় নিয়ে যাব যা অন্য কেউ ছুঁতে পারবে না? এই যুগে মানদণ্ড 'পিছিয়ে থাকা' নয়, বরং 'মানদণ্ড এত উঁচুতে তোলা যে পিছিয়ে থাকা অন্য দলের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়'। ছোট স্বপ্ন দেখলেই আপনি মাঠের বাইরে। এআই কর্মচারী নয়, এটি ফাইবারগ্লাস দণ্ড বা গ্রাফাইট র্যাকেট — এমন একটি প্রযুক্তি যা আপনার সেরা মানুষকে এমন পর্যায়ে পারফর্ম করতে দেয় যা তারা ছাড়া অর্জন করতে পারত না। সর্বোপরি, রেকর্ড সবসময়ই সৃষ্টি করেছে সেই মানুষরা, যারা ভালো হাতিয়ারকে গ্রহণ করেছে — হাতিয়ার নিজে কখনো নয়।