নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গত শনিবার তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাথানস ফেমাস ফোর্থ অব জুলাই নামের ঐতিহ্যবাহী হটডগ খাওয়ার প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে কোনি আইল্যান্ডে আয়োজিত এই ইভেন্টে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৬৬টি হটডগ খেয়ে নিজের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রেখেছেন জোয়ি ‘জস’ চেস্টনাট। এ নিয়ে ২১ বার অংশ নিয়ে ১৮তম বারের মতো মাস্টার্ড বেল্ট জিতলেন ৪২ বছর বয়সী এই বিখ্যাত খাদক।
প্রতিযোগিতা শেষে স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি পলিমার্কেটের নাম লেখা ভারী নেকলেস পরে হাঁপাতে হাঁপাতে চেস্টনাট বলেন, ‘এটি একটি স্বপ্নের মতো, রোমাঞ্চকর অনুভূতি। পৃথিবীতে এর চেয়ে ভালো আর কোনো জায়গা নেই।’ ইভেন্টের আগে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে প্রতিযোগিতামূলক হটডগ খাওয়াকে ‘সবচেয়ে দেশাত্মবোধক খেলা’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি।
চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৩ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে জয়ী হন চেস্টনাট। ৫০টি হটডগ খেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা ৪১ বছর বয়সী প্যাট্রিক বারটোলিটিকে সহজেই হারান তিনি। তবে ২০২১ সালে নিজের গড়া ৭৬টি হটডগ (প্রতি মিনিটে প্রায় ৭.৬টি) খাওয়ার রেকর্ড এবার ভাঙতে পারেননি চেস্টনাট।
নারীদের বিভাগে ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে আসা ৪০ বছর বয়সী মিকি সুডো ৩৮.৭৫টি হটডগ খেয়ে ১২তম বারের মতো উজ্জ্বল গোলাপি রঙের মাস্টার্ড বেল্ট জিতেছেন। ২০২৪ সালে ৫১টি হটডগ খেয়ে নিজের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। নিজের প্রতিযোগিতা শেষে সুডো পুরুষদের ইভেন্টে অংশ নেওয়া স্বামীকে দেখতে দর্শকদের সঙ্গে যোগ দেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মাত্র ৩ মিনিটের কিছু বেশি সময়ে ৫০টি সেদ্ধ ডিম খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পরপরই সুডোকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী।
উভয় চ্যাম্পিয়নই জানিয়েছেন, শনিবার নিউইয়র্কের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ প্রতিযোগিতাটিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। ইভেন্টের সময় ব্রুকলিনের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক দর্শক এই আয়োজন দেখতে ভিড় জমান। কোনো প্রতিযোগী বমি করে দিলে তা থেকে বাঁচতে মঞ্চের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা দর্শকেরা পনচো (বৃষ্টিরোধী পোশাক) পরে ছিলেন।




