লং আইল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্য স্পাভেন্টা গ্রুপ (টিএসজি) অবসরপ্রাপ্তসহ শত শত বিনিয়োগকারীকে টার্গেট করে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাইভেট প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) শুক্রবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দায়ের করা একটি অভিযোগে এই তথ্য জানিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১০০ জনের বেশি বিক্রয়কর্মী ফোন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে স্পেসএক্স, অ্যান্ডুরিল, অ্যানথ্রপিক এবং পারপ্লেসিটির মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতেন। এ সময় তাদের বলা হতো, কোনো লুকানো ফি নেই। কিন্তু বাস্তবে এসব শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে লং আইল্যান্ড ও নিউ জার্সির অফিস থেকে পরিচালিত ১১টি প্রাইভেট ফান্ডের মাধ্যমে মোট ৭৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। এসইসির দাবি, বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের জন্য গড়ে ৪৬ শতাংশ বেশি মূল্য পরিশোধ করেছেন, যা স্পাভেন্টার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো ওই শেয়ার কিনতে খরচ করেছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত মূল্য ৯১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে শেয়ারগুলো কিনে নিত এবং পরে নিজস্ব ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করত। যেমন, ফান্ড ৮-এ অ্যানথ্রপিকের শেয়ার ৩২.৬২ থেকে ৪১.৫৩ ডলারে কেনা হয়েছিল এবং ৫৮.৫০ ডলারে বিক্রি করা হয়, যা ৪১ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত মার্কআপ। ২০২৪ সালে এই মার্কআপ থেকে ৫.৮ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। পারপ্লেসিটি এআই-এর শেয়ার ৩৪০.৭২ থেকে ৩৮৯ ডলারে কিনে ৪৯৫ ডলারে বিক্রি করা হয়। স্পেসএক্সের শেয়ার ৫৯৫ ডলারে কিনে ৯৭৫ ডলারে বিক্রি হয়। অ্যান্ডুরিলের শেয়ার তিনটি ফান্ডে ২৯ থেকে ৫৭ শতাংশ মার্কআপে বিক্রি হয়। তবে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

এসইসির অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্পাভেন্টা তার বিক্রয়কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতেন যেন তারা গ্রাহকদের কাছে ফি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয়। বিক্রয়কর্মীদের বলা হতো, 'আমাদের কোনো লুকানো ফি নেই'। কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিনিয়োগকারীদের টাকা থেকে মার্কআপ কেটে নেওয়া হতো। বিক্রয়কর্মীরা ২০০ থেকে ১,০০০ শতাংশ রিটার্নের উদাহরণও দিতেন, যদিও ফান্ডগুলো কখনো সেসব বিনিয়োগ ধারণ করেনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, স্পাভেন্টা নিজে অন্তত ৪ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন, যা তিনি বাড়ি কেনা, সংস্কার, ব্যক্তিগত ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল গাড়ির পেমেন্টে খরচ করেছেন। ৪০ বছর বয়সী স্পাভেন্টা ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন তিনি এসইসির অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করবেন। এসইসি স্পাভেন্টা এবং তার নিয়ন্ত্রিত তিনটি প্রতিষ্ঠান—টিএসজি, টিএসজি ক্যাপিটাল অ্যাডভাইজার্স এবং টিএসজি আলফা পার্টনার্স—বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এসইসি ক্ষতিপূরণ, দেওয়ানি জরিমানা এবং সিকিউরিটিজ শিল্প থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইছে।