বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আসন্ন সফর। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরে আসবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে উপজেলার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অপর পক্ষটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ এহসানুল হুদা, যিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি তার বাবার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। তাঁদের মূল দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহিষ্কৃত সকল নেতার দলীয় পদ পুনর্বহাল করা। অন্যদিকে, এহসানুল হুদার পক্ষের লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় নেতাদের বোঝানো যে, বহিষ্কৃত নেতাদের হাতে সংগঠনের প্রকৃত নেতৃত্ব নেই।
এহসানুল হুদার অনুসারীরা জানান, সফরকে সামনে রেখে তাঁরা ইতিমধ্যে অন্তত সাতটি সভা করেছেন এবং নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। পৌর বিএনপির সভাপতি এহসান কুফিয়া, যিনি এহসানুল হুদার পক্ষে অবস্থান করছেন, তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রথমে শেখ মজিবুর রহমানকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং তাঁকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়। মনোনয়ন না পেয়ে শেখ মজিবুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
নির্বাচনের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৪ জানুয়ারি শেখ মজিবুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর সমর্থনে অবস্থান নেওয়া বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার ৮৩ জন নেতাকেও একই কারণে বহিষ্কৃত করা হয়। তবে বহিষ্কার সত্ত্বেও তাঁরা উপজেলা বিএনপির ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন বলে জানা গেছে।
বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান জানান, দল তাঁদের ছেড়েছে, কিন্তু তাঁরা দল ছাড়েননি। তিনি বলেন, তাঁরা আগের মতোই দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বড় প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এহসানুল হুদা জানান, ১৬ আগস্ট এমন একটি চমক দেখানো হবে যাতে প্রমাণিত হয় যে বহিষ্কৃত নেতাদের হাতে দলের পতাকা নেই। বহিষ্কৃতদের দলে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কাউকে বহাল রাখা হলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, শেখ মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তার দলীয় মনোনয়ন এমন একজন ব্যক্তি কেড়ে নিয়েছেন যিনি একদিনও বিএনপি করেননি। তিনি বলেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে প্রমাণ করেছেন যে বাবার দল বিলুপ্ত করলেই ভোট পাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, তিনি আগেও বিএনপি ছিলেন, এখনো বিএনপি।
এহসানুল হুদার অনুসারীরা দাবি করেন, নির্বাচনের সময় মজিবুরের পক্ষে থাকা অনেক নেতা-কর্মী এখন মূল ধারায় ফিরে এসেছেন এবং অনেকে বর্তমানে এহসানুল হুদার সঙ্গে কাজ করছেন।
বহিষ্কৃত নেতাদের দলীয় ব্যানার ব্যবহারের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁর জানা নেই যে তাঁরা এমন কর্মসূচি করছেন। তবে তিনি জানান, বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকায় তাঁদের এ ধরনের কর্মসূচি করার সুযোগ নেই।




