দীর্ঘ এক বছর ছয় মাস ধরে লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এরই মধ্যে সংক্ষিপ্ত এক সফরে স্বদেশে এসেছিলেন তিনি, তবে আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয় প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন এই অভিনেতা। সেই সময় দেশে অবস্থানকালে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। এছাড়া নিসচার একটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন এবং কাকরাইলে সংগঠনটির কার্যালয়ে যান। বাসায় অতিথিদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠার সুযোগও হয় তাঁর।

লন্ডন যাওয়ার আগের দিন মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।

বুধবার সকালে তাঁর ফ্লাইট থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি পিছিয়ে বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। সহকর্মীরা এসেছেন, মন খুলে আড্ডা দিয়েছেন। এসব বিষয় তাঁকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি।’

এবারের চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী ধাপে তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতালে ও তাঁর মেয়ে ইমা ইসলামের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা চলছে। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের এক হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে পারলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমারটি বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তাঁরা জানান, এটি মস্তিষ্কের ক্যানসার।

অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা পর্ব। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপি চলেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহে তাঁকে ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। পরে প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওষুধ সেবন করেন। তিনটি ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ এই চিকিৎসার পরও শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে দেড় বছরের বেশি সময় বিদেশে থাকায় দেশে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষে কিছুদিনের জন্য দেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি, তারই ফলশ্রুতিতে এবার তাঁকে ঢাকায় আনা হয়। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল সেটি এখনো সেখানেই অবস্থান করছে। তবে শরীরের অন্য কোনো অংশে ছড়িয়ে পড়েনি, যাকে তাঁরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।