আমেরিকান ফুটবলের ইতিহাসে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের সান ফ্রান্সিসকো ৪৯ার্সের রাজত্বকাল ছিল স্বর্ণযুগ। সেই সময় দলটি একের পর এক সুপার বোল জয় করে কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। কিন্তু এই সাফল্যের মাঝে একজন মানুষের অবদান আজও প্রায় আলোচনার বাইরে — তিনি হলেন জন ম্যাকভে, যিনি দলটির অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। তাঁর নাতি শন ম্যাকভে বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস র্যামসের হেড কোচ হিসেবে নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন। সম্প্রতি রজার ক্রেইগ প্রো ফুটবল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যিনি ৪৯ার্সের সেই সোনালি যুগের অন্যতম সেরা রানিং ব্যাক। কিন্তু ক্রেইগের এই স্বীকৃতির পেছনে যে মানুষটি তাঁকে দলে এনেছিলেন, সেই জন ম্যাকভের নাম এখনও ইতিহাসের পাতায় অবহেলিতই থেকে গেছে।
জন ম্যাকভে কেবল একজন প্রশাসক ছিলেন না; তিনি ছিলেন দল গঠনের কৌশলী, যিনি খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ গঠন পর্যন্ত সবকিছুতে গভীর প্রভাব রেখেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই ৪৯ার্সে এসেছিলেন কোচ বিল ওয়ালশ এবং কিংবদন্তি কোয়ার্টারব্যাক জো মন্টানা। সেই সঙ্গে রজার ক্রেইগের মতো খেলোয়াড়দের দলে টেনে এনে তিনি গড়ে তোলেন এক অপ্রতিরোধ্য দল। ক্রেইগ ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৪৯ার্সের হয়ে খেলেছেন এবং দলটিকে তিনটি সুপার বোল জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর মেধা ও দক্ষতার কারণে সেই সময় ৪৯ার্সের আক্রমণভাগ ছিল লিগের সবচেয়ে ভয়ংকর। সম্প্রতি হল অব ফেমে তাঁর অন্তর্ভুক্তি সেই অবদানেরই স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জন ম্যাকভের নাতি শন ম্যাকভে আজ এনএফএলের অন্যতম তরুণ ও সফল কোচ। দাদার কাছ থেকে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তিনি। শন ম্যাকভের সাফল্যের পেছনে দাদার অনুপ্রেরণার কথা তিনি নিজেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন। ছোটবেলায় দাদার কাছে ফুটবলের নানা দিক সম্পর্কে শুনেছেন, সেই শিক্ষাই আজ তাঁর কোচিং দর্শনের ভিত্তি। হল অব ফেমের আলোচনায় রজার ক্রেইগের নাম উঠলেও জন ম্যাকভেকে কেউ মনে না রাখলেও, ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তাঁর অবদান যে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে — তা বলার অপেক্ষা রাখে না।




