গতকাল আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে হার মেনে না নিয়ে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দলটি দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ খেলে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয়, যার মাধ্যমে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর চোখের পানি, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মেসির কান্নার একটি ছবি পোস্ট করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা রিভালদো। তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘কী অসাধারণ দৃঢ়তা, জয়ের জন্য কী প্রবল ইচ্ছাশক্তি, কী লড়াই এবং সবার কী নিবেদন! বিশ্বকাপে মাঠে দর্শকেরা ঠিক এমন ফুটবলই দেখতে চায়।’ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের একজন সাবেক তারকার কাছ থেকে আসা এই প্রশংসা শুধু ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্বের জয়গান নয়, বরং আবেগের কোনো সীমানা নেই বলেও মনে করিয়ে দেয়।

রিভালদো আরও উল্লেখ করেন, ‘মেসিকে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই—এটা তো সবারই জানা। কী অসাধারণ একজন খেলোয়াড়! ৩৯ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলেও তিনি আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি একই রকম আবেগ দেখিয়ে চলেছেন—উদ্‌যাপন করছেন, লড়াই করছেন, কাঁদছেন এবং আবারও ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন।’ সময়ের পরিবর্তন সত্ত্বেও মেসির পায়ের জাদু ও মাঠের লড়াইয়ের তীব্রতা যে একটুও কমেনি, তা স্পষ্ট হয়েছে তাঁর এই মন্তব্যে।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র ও চিরন্তন হলেও, রিভালদো সেটিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি ব্রাজিলিয়ান, আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং সব সময়ই আমাদের জাতীয় দলের সমর্থন করব। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলেরই অংশ, তবে আমি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ এবং এমন একটি দলকে সম্মান ও প্রশংসা করতেও জানি, যারা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেয়।’

হার–জিতের ঊর্ধ্বে উঠে ফুটবল ভালোবাসার যে জন্ম দিতে পারে, আটলান্টার দিনটি ছিল ঠিক তেমনই এক গল্প। রিভালদো তাঁর লেখায় সেই অপার্থিব সৌন্দর্যের বন্দনা করে বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচ ফুটবলকে আরও মহিমান্বিত করে এবং বিশ্বকাপের জন্য সত্যিই উপযুক্ত। পরবর্তী পর্বে ওঠার জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন।’