বর্তমানে হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের একজন ভিন ডিজেল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও অর্থবিষয়ক সাইটের তথ্য অনুসারে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল অঙ্কের বেশির ভাগই এসেছে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে। শুধু অভিনয় নয়, প্রযোজক হিসেবেও তিনি নিয়মিত লভ্যাংশ পান। জানা গেছে, প্রতিটি ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমার জন্য তিনি দুই কোটি থেকে আড়াই কোটি ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়েছেন।
তবে এই সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। ১৯৬৭ সালের ১৮ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিন ডিজেলের প্রকৃত নাম মার্ক সিনক্লেয়ার। ছোটবেলায় মা ডেলোরা শার্লিন ভিনসেন্টের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে যান। মা ছিলেন জ্যোতিষবিদ ও মনোবিজ্ঞানী, আর সৎবাবা আর্ভিং এইচ ভিনসেন্ট ছিলেন থিয়েটার পরিচালক ও অভিনয়শিক্ষক। সৎবাবাই তার শিল্পীজীবনে বড় প্রভাব ফেলেন। মাত্র সাত বছর বয়সে থিয়েটারে দুষ্টুমি করতে গিয়ে ধরা পড়লে শাস্তি না দিয়ে তাকে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার জন্ম।
কিন্তু হলিউডে পা রাখা সহজ ছিল না। দীর্ঘ নয় বছর তিনি নাইট ক্লাবে বাউন্সার বা নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন। নিজেই বলেছেন, ‘১৭ বছর বয়সে রাতে ক্লাবে কাজ করতে হতো। দিনের বেলা অডিশন দিতাম। প্রায় ৯ বছর বাউন্সার ছিলাম। শত শত মারামারির মধ্যে পড়েছি, তবে সহিংসতা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম। এই অভিজ্ঞতাই আমাকে হলিউড অভিনেতা হিসেবে সুযোগ এনে দিয়েছে।’ একাধিক প্রযোজক তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ তারা মনে করতেন তিনি প্রচলিত নায়কের আদলে তৈরি নন। বারবার অডিশন দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পেয়ে তিনি নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৯৫ সালে মাত্র তিন দিনের শুটিংয়ে তিনি তৈরি করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাল্টি-ফেসিয়াল’। ছবিটির গল্প ছিল এক বহুজাতিক বংশোদ্ভূত অভিনেতার সংগ্রামের, যা অনেকটাই তার নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলে সেটি নজরে পড়ে স্টিভেন স্পিলবার্গের। মুগ্ধ হয়ে স্পিলবার্গ তার জন্য ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ সিনেমায় বিশেষভাবে একটি চরিত্র লিখে দেন। ১৯৯৮ সালের এই ছবিই ভিন ডিজেলের জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।
তবে তাকে বিশ্বখ্যাত করে তোলে ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে ডমিনিক টরেটো চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর সিক্যুয়েলগুলো বক্স অফিসে রেকর্ড আয় করে। এই সিরিজ থেকেই গড়ে ওঠে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব পল ওয়াকারের সঙ্গে। ২০১৩ সালে পল ওয়াকার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ভিন ডিজেল ভেঙে পড়েন।
ভিন ডিজেলের মতে, নিজের আত্মবিশ্বাস খুঁজে নেওয়া এবং ভালোবাসাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলাই সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি বলেছেন, ‘নিজের গল্প নিজেই তৈরি করা যায়। বাকিটা আপনা-আপনি চলে আসবে।’ হলিউডে অনেক অ্যাকশন তারকা এলেও ভিন ডিজেল আলাদা হয়ে আছেন তার পর্দার ব্যক্তিত্ব, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সংগ্রামের গল্পের কারণে।


