কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান বিতরণের নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট বাজেটের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত পরিচালন বাজেট থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই বরাদ্দকৃত অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এর জন্য বিভাগের সঙ্গে নগদ কর্তৃপক্ষের একটি চুক্তি রয়েছে।

চিঠি অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে ৪২৮টি মনোনীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। মনোনীত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এই অর্থ ৮৫৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা হারে দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ আরও বিস্তৃত। ইবতেদায়ি স্তরের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ২ হাজার ৪৮৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। দাখিল ও ভোকেশনাল স্তরের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ৩ হাজার ১৬৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেককে ৮ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৫৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হবে। এইচএসসি (বিএম), আলিম ও ডিপ্লোমা স্তরের ১ হাজার ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ কামিল, ফাজিল ও তদূর্ধ্ব শ্রেণির ৫৩৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা জারির ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নগদ প্রশাসককে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে উল্লিখিত হারে টাকা বিতরণ করতে হবে। বিতরণ শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে জমা দিতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী বা শিক্ষার্থীর অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থ শুধুমাত্র একটি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল নম্বরে একবারই পাঠানো যাবে। অর্থাৎ একাধিক অনুদানের অর্থ একই ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল নম্বরে জমা করা যাবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব নম্বরে সরাসরি পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। বিতরণের পর কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে তা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে এবং সেই জমার প্রমাণক বিভাগে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।