পেপসিকোর সাবেক শীর্ষ নির্বাহী ইন্দ্রা নুই সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনের একটি ডকুমেন্টারি সিরিজে ১ জুলাই প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা দেন।

নুই জানান, ক্যারিয়ারের পথে সঠিক পরামর্শদাতা বা মেন্টরের বিকল্প নেই। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি নিজে অসাধারণ কিছু মেন্টরের সাহায্যে গড়ে উঠেছেন এবং তাঁদের সময়, শ্রম ও বিশ্বাসের জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ। এই মেন্টররা তাঁকে দ্রুত শিখতে ও সঠিক পথ বেছে নিতে সহায়তা করেছেন।

বর্তমান দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন নুই। তিনি কখনো পেপসিকোতে যোগ দিয়েই সিইও হওয়ার পরিকল্পনা করেননি; বরং নিজের হাতে থাকা কাজটিকে নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ‘১০ বছরের মধ্যে সিইও হব’—এমন দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য স্থির করলে মানুষ প্রায়শই সেই লক্ষ্যে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে; বর্তমান কাজটি ভালোভাবে করলেই পরবর্তী সুযোগ নিজে থেকে আসে।

কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন—সকালে ক্লাস, রাতে কাজ, আর মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ছাত্রাবাসে রিসেপশনিস্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনের প্রতিটি ধাপে কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষা দিয়েছে।

ঝুঁকি নেওয়ার সাহসের কথাও বলেন নুই। তিনি জানান, কর্মজীবনে তিনি হিসাব করে ঝুঁকি নিয়েছেন, যদিও জানতেন এতে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকতে পারে। তবে তাঁর ও তাঁর স্বামীর জীবনযাত্রা ছিল খুবই সাধারণ, ফলে একটি আয়েই সংসার চলে যেত—এমন নিরাপত্তা তাঁকে সাহস দিয়েছে।

বিনয়ী থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে নুই স্মরণ করেন তাঁর মায়ের একটি উপদেশ: “তুমি যত বড় মানুষই হও না কেন, তোমার মুকুটটি গ্যারেজেই রেখে ঘরে ঢুকবে।” ঘরের সাধারণ কাজ করতে কখনো নিজেকে বড় মনে না করার শিক্ষা তাঁকে সব সময় বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।

পাশাপাশি সুযোগের সদ্ব্যবহারের কথাও বলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে পড়তে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগই তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ, মটোরোলা ও পেপসিকোয় কাজের সুযোগ পান তিনি। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে সুযোগ চিহ্নিত করে তা কাজে লাগানোই সাফল্যের চাবিকাঠি।