২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পরই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এক বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী। দীর্ঘ ১২ বছর পর সেই ভক্তের জন্য এসেছে স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনাকে সরাসরি মাঠে বসে দেখার সৌভাগ্য হয় তার।
মিসরের বিপক্ষে প্রায় বিদায়ের মুখে চলে যাওয়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। এরপর থেকেই টিকিট কেটে রাখা ওই ভক্তের অপেক্ষা শুরু হয়। ক্যানসাস সিটির ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড। খেলাটি ছিল রোমাঞ্চকর। শুরুর দিকে আর্জেন্টিনা গোল করলে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। সুইজারল্যান্ড সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয় পায়।
ম্যাচ চলাকালে ভিএআর রিভিউ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথমে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হয়, তবে পরে দেখা যায় লাল কার্ডটি সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়কে। এতে স্বস্তি ফিরে আসে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে।
এটি ছিল ওই ভক্তের জন্য তৃতীয় ম্যাচ যা তিনি মাঠে উপভোগ করলেন। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির দুই গোল দেখা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই মাঠে উপস্থিত ছিল হাজারো আর্জেন্টাইন, যারা বাংলাদেশি এই সমর্থককে আপন করে নেয়। বাংলাদেশের পতাকা দেখে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং দেশটির প্রতি ভালোবাসার কথা জানায়। কেউ কেউ বাংলাদেশ ভ্রমণের আগ্রহও প্রকাশ করে।
খেলা শুরুর আগে ক্যানসাস সিটির ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে লাইভ কনসার্ট ও ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধ উপভোগ করেন। স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর উইচিটা থেকে আসা আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা সমর্থকের সঙ্গে দেখা হয়। সবার মিলনে যেন ক্যানসাস সিটিতেই গড়ে উঠেছিল ছোট্ট একটি বাংলাদেশ। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।




