দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে সকাল ১০টা থেকে শহরের প্রধান চারটি প্রবেশপথসহ বিভিন্ন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। ফলে জেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বালুয়াডাঙ্গা, সরকারি কলেজ মোড়, সিএন্ডবি মোড় ও ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে; এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেছেন, থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মজিবর রহমানকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁকে জঙ্গি কায়দায় আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। এছাড়া কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবীর অপসারণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৯টায় একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করতে কোতোয়ালি থানায় যান সিআইডি পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান। তিনি তখন সিভিল পোশাকে ছিলেন। একই সময়ে থানার ওসির সাথে সাক্ষাৎ করতে সেখানে উপস্থিত হন মজিবর রহমান। ওসি তখন থানায় ছিলেন না, তাই তাঁর কক্ষের সামনে নওয়াবুরের কাছে মজিবর অবস্থান জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে মজিবরসহ অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলাতেই বর্তমানে কারাগারে আছেন মজিবর রহমান।
উল্লেখ্য, মজিবর রহমান জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব এবং সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তিনি বালুয়াডাঙ্গা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও একটি ইজিবাইক গ্যারেজের মালিক। এই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত সোমবার তাঁকে সব ধরনের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পরিবহন ধর্মঘট প্রসঙ্গে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম বলেন, মজিবর রহমান অপরাধ করলে তার বিচার হোক, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে থানা হেফাজতে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, ফলে তিনি হাঁটতেও পারছিলেন না। পুলিশের এমন শারীরিক নির্যাতন কাম্য নয়। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম জানান, থানা হেফাজতে কাউকে মারধর করা হয়নি। থানায় মজিবরের স্বজন এবং শ্রমিক ইউনিয়নের বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন, তারপরও অভিযোগ উঠেছে বলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। ওসি নূরনবীর অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওসি যদি জনগণকে প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।




