ফিফা প্রভেসিট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নের্তৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর ঘোষণা থেকে সরছে না ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বিশ্বক্সের মতো প্রধান টুর্নামেন্টগুলোতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারিত্ব বিক্রয়ের প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পরও তারা তাদের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিফার সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা ও দুঃখপ্রকাশ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি।
বুধবার মরক্কোয় ফিফার এক নির্বাহী বৈঠকের পর ইনফান্তিনো ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তা যথেষ্ট মনে করছে না ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। প্রতিষ্ঠানটি ইনফান্তিনোর প্রতি নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহারের একটি পত্র ইতমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের বিষয়ে উয়েফা এক বিবৃতিতে বলে, “প্রথমত, প্রধান প্রতিযোগিতাগুলো বিক্রির প্রস্তাব ফিরিয়ে নেওয়া ছিল শর্ত; এবং দ্বিতীয়ত, এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে খেলাকে বিকৃত করার এমন প্রয়াস আর কখনও নেওয়া হবে না।” উয়েফা এর আগে এই পরিকল্পনাকে ‘নোংরা, গোপন ও অস্বচ্ছ চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছিল।
ইনফান্তিনো প্রস্তাব করেছিলেন, যদি সদস্য দেশগুলো ফিফার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই)-এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনায় সমর্থন দেয়, তবে প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লে, বুধবারের বৈঠকে ফিফা স্বীকার করে যে এফএফই নিয়ে “ভুলগুলো” হয়েছে এবং কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো যাতে “প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ না করে” তা নিশ্চিত করা হবে।
তবে ফিফার এই ব্যাখ্যা উয়েফাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। উয়েফা তাদের বিবৃতিতে আরও বলে, “আমরা শনিবারই স্পষ্ট জানিয়েছিলাম যে আমরা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সভাপতিত্বে আস্থা হারিয়েছি। সেই অবস্থান বহাল থাকছে। গতকালের ঘোষণায় দেখা গেল, ফিফা সভাপতির অধীনস্থ কিছু ব্যক্তি, যাদের ক্যারিয়ার তার অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল, তারাই তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা কিছুই বদলায় না।”
মরক্কোর রাবাতে ফিফার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ছিল ইনফান্তিনোর ডাকা। সেখানে তার ডানহাত হিসেবে পরিচিত মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম, যিনি পূর্বে এই প্রস্তাবকে ‘একটি দুঃখজনক ও নিন্দার যোগ্য ঘটনা’ বলে অভ্যন্তরীণ মেমোতে সমালোচনা করেছিলেন, তাকেও দেখা গেল ইনফান্তিনোর পাশে হাসিমুখে বসে থাকতে। পরে মালাওই ও জাম্বিয়ার মধ্যে এক প্রীতি ম্যাচেও তারা একসাথেই ছিলেন, যা থেকে বোঝা যায় বিরোধ মিটে গেছে। তবে বৈঠকে প্রধান অপারেটিং অফিসার কেভিন ল্যামোরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। লামোর এই পরিকল্পনাকে ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’ বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, “আমার চাকুরি গেলেও আমি শান্তিতে ঘুমাবো।”
ইউয়েফার উদ্বেগ হলো, এই বৈঠক ছিল এমন কিছু কর্মীদের সমাবেশ যারা নিজেরাই ফিফা প্রশাসনের অংশ। এতে ইনফান্তিনোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল কি না, যেমন: পরিকল্পনায় কারা জড়িত ছিল, কোন প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল কি না, এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল কি না—তা স্পষ্ট না। উয়েফা এখনও সেই মৌলিক উত্তরগুলো চায়। পরিস্থিতির পরবর্তী পরীক্ষা হবে পরবর্তী মাসে পোল্যান্ডে ফিফা নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে। এতে ইংল্যান্ডসহ ছয়টি ইউরোপীয় দেশ অংশগ্রহণ করবে, যা উয়েফার জন্য নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ইউরোপীয় কর্তাদের কাছে স্পষ্ট, বিবৃতিটি ছিল গোটা ফিফার প্রতিনিধিত্বকারী নয়, বরং কাউন্সিল বা সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শের অভাবই প্রকট হয়েছে। তাদের ধারণা, ইনফান্তিনো দোষ ছড়িয়ে দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত দায় এড়াতে চাইছেন। অপরদিকে ফিফার ভেতরকার এক অনুগত কর্মকর্তার দৃষ্টিতে ইউরোপের এই প্রতিক্রিয়া ‘উন্মাদনা’র কাছাকাছি এবং বৈশ্বিকভাবে ইনফান্তিনোর যে বৈধতা আছে তা অস্বীকার করার শামিল। ইনফান্তিনো ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখে পাল্টা আক্রমণের শুরুটি করেছন। তবে তার বিরোধীরা এখন ক্রমশ ঐকবদ্ধ প্রার্থী খুঁজছে, যিনি আগামী বছরের প্রভ নির্বাচনে তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।




