সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে গাভির একটি ছবি দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেনের এই তরুণ মিডফিল্ডারের চুলের রং এখন গোলাপি। যারা আগের ঘটনা সম্পর্কে জানেন না, তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—কেন এই রং বেছে নিলেন তিনি? সরল উত্তর হলো, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। অন্য ভাষায় বললে, কথা দিয়ে ফেলার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে তাঁকে। সতীর্থরা যখন একে একে নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করতে শুরু করেছেন, তখন গাভির আর পিছু হটার উপায় ছিল না।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে গাভি ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্পেন যদি চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে তিনি চুল গোলাপি রঙে রাঙাবেন। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে দুটি ছবি পোস্ট করে সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমি কথা রাখার মানুষ’। তাঁর সেই পোস্টে সতীর্থ লামিনে ইয়ামাল শুধু হাসি আর কান্নার ইমোজি যোগ করেছেন। ১২ আগস্ট বার্সেলোনার প্রাক্‌-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর, ধারণা করা হচ্ছে সতীর্থরা তাঁকে চিনতে পারবেন!

গাভির আগে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফুলব্যাক মার্ক কুকুরেয়া। বিশ্বকাপের আগে একটি রেডিও অনুষ্ঠানে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে তিনি কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখ ট্যাটু করাবেন। কথাটা তখন হাসির খোরাক মনে হলেও শিরোপা জেতার পর দেখা গেল কুকুরেয়া সত্যিই ট্যাটু আর্টিস্টের কাছে হাজির হয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, এই একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁর সতীর্থ আলেক্স বায়েনাও। তবে তিনি এখনো ট্যাটু পারলারমুখী হননি বলে জানা গেছে!

অন্যদিকে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইয়ামাল একটি ইউটিউব ভিডিওতে বলেছিলেন, শিরোপা জিতলে তিনি তিন সপ্তাহ দাড়ি-গোঁফ কাটবেন না। ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মুখে তখনো ঠিকমতো দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে কিছুটা খোঁচা শুনতে হয়েছিল। শিরোপা জেতার পর সাংবাদিকেরা যখন প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেন, ইয়ামাল হাসতে হাসতে স্বীকার করেন যে তিনি নিজেই ভুলে গিয়েছিলেন। এখন কুকুরেয়া আর গাভি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় বার্সার এই তরুণ ফরোয়ার্ডের ওপর চাপ হয়তো বেড়েই গেল!

এছাড়া ফাইনালের গোলদাতা ফেরান তোরেস বলেছিলেন, দল চ্যাম্পিয়ন হলে তিনি চুল কামিয়ে ফেলবেন। স্পেনের জয়ের পর সেটিও তাঁকে মনে করে দিয়েছেন অনেকে, তবে তোরেস এখনো সেই ‘দুঃসাহস’ দেখাতে পারেননি! এখন প্রশ্ন হলো, ইয়ামাল ও তোরেস কি নিজেদের কথা রাখবেন?