মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিশ্বব্যাপী শুল্ক আদায়ের পর সেই অর্থ ফেরত দিয়ে দেশের ব্যবসা ও আমদানিকারকদের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিতরণ করেছে। এই অর্থ দ্রুত অর্থনীতিকে গতিশীল করে তুলছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে তালিকাভুক্ত ৪০টি কোম্পানি ৯.৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেয়েছে। এর মধ্যে এককভাবে অ্যাপল প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। নাইকি, ফেডেক্স, অ্যামাজন এবং জেনারেল মোটরস অন্যতম শীর্ষ প্রাপক।
অ্যাপোলোর প্রধান অর্থনীতিবিদ টরস্টেন স্লোক শনিবার এক নোটে বলেছেন, শুল্ক ফেরত কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে। তার অনুমান, এই ফেরত অর্থ তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ০.২ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রাখবে। অ্যাটলান্টা ফেডের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ, যা উচ্চ পরিমাণের এআই-সম্পর্কিত আমদানির কারণে কিছুটা বিকৃত ছিল। প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.১ শতাংশ।
বর্তমান প্রান্তিকে শুল্ক ফেরতের সঙ্গে অন্যান্য ইতিবাচক বিষয়ও যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চলমান এআই বিনিয়োগের জোয়ার, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় কর ছাড় এবং মার্কিন উৎপাদন শিল্পের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। স্লোক উল্লেখ করেছেন, ক্রমবর্ধমান অনুকূল পরিস্থিতি মার্কিন অর্থনীতিকে সমর্থন করে যাচ্ছে।
জুলাই মাসের দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন অর্থনীতি গতি হারাচ্ছে এমন সংকেত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সরকারি চাকরি ও আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থানের তীব্র পতনকে তিনি মৌসুমি সমন্বয়ের খুঁটিনাটি বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। এই খাতগুলো বাদ দিলে অর্থনীতিতে ৭০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতো, যা ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশার কাছাকাছি। অথচ প্রকৃত সংখ্যায় ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। এছাড়া সাপ্তাহিক বেকার দাবির সংখ্যা ২০০ হাজারের ঘরে স্থিতিশীল রয়েছে এবং গত ছয় মাসে চাকরির সুযোগ বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্লোকের ভাষ্য, বাজার বর্তমানে অর্থনীতির প্রকৃত শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছে। ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আদায় করা ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের প্রায় ৬০ শতাংশ এখন পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে এই আইনটি বাতিল করে দেয়। তবে কিছু মার্কিন ভোক্তা এই অর্থের একটি অংশ নিজেদের কাছে ফিরে পেতে চান এবং তারা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করছেন। অ্যামাজন, ফেডেক্স ও ইউপিএস-এর মতো কোম্পানি অবশ্য গ্রাহকদের কাছে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর আগে ব্যাংক অব অ্যামেরিকার বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেছিলেন, খুচরা বিক্রেতারা ফেরত পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং ফ্রেইট ও অন্যান্য সাপ্লাই-চেইন খরচ offset করছে। কিছু খুচরা বিক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সরাসরি অর্থ পরিশোধ বা ভবিষ্যতের ক্রয় আদেশের মাধ্যমে কিছু শুল্ক অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করবে বলেও তারা আশা করছেন। বিশ্লেষকরা আরও যোগ করেছেন, এর বাইরে কোম্পানিগুলোর কাছে এই অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ বা শেয়ারহোল্ডারদের ফেরত দেওয়ার বিকল্প রয়েছে।




