আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি নাইজেরিয়ার বিলিয়নেয়ার আলিকো ড্যানগোটে মহাদেশটির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার মালিকানাধীন তেল শোধনাগারের একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে তিনি ২.১ বিলিয়ন ডলার (১.৬ বিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই প্রাথমিক পাবলিক অফারিং বা আইপিও-র মাধ্যমে শোধনাগারের প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে বন্টন করা হবে। ড্যানগোটের মতে, সাধারণ নাইজেরিয়ানদের এই বিশাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অংশীদার করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালে উৎপাদন শুরু করা এই তেল শোধনাগারটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং এটি নির্মাণ করতে এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছে। বর্তমানে নাইজেরিয়ার মোট জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশেরও বেশি এই শোধনাগারটি থেকে সরবরাহ করা হয়। এই সুযোগটি কাজে লাগাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসাহ স্যালিসু নামের এক বিনিয়োগকারী তার সঞ্চয় থেকে ৫০ হাজার নাইরা তুলে এই শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে তার ক্ষুদ্র বিনিয়োগের বড় রিটার্ন মেলে।

এক মাস মেয়াদি এই আইপিও-তে ন্যূনতম ১০টি শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪ ডলার। তবে এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি সম্পর্কে অর্থনীতি ও ব্যবসা বিশেষজ্ঞ ডক্টর আব্দুলরাজাক ইব্রাহিম ফাগে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, শেয়ারের দাম হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ৫ বছর যে অর্থের প্রয়োজন নেই, কেবল সেই অর্থই বিনিয়োগ করতে। পাশাপাশি তিনি ভুয়া প্রতারকদের হাত থেকে সতর্ক থাকতে এবং শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

নাইজেরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে শোধনের সক্ষমতার অভাবে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে ড্যানগোটের এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, ৬৭ বছর বয়সী আলিকো ড্যানগোটের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। সিমেন্ট এবং চিনির ব্যবসায় সফল হওয়ার পর তিনি আফ্রিকার আরও ১৬টি দেশে তার ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ড্যানগোটে সিমেন্ট বর্তমানে আফ্রিকার বৃহত্তম সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

লাগোসের লেক্কি ফ্রি জোনে অবস্থিত এই শোধনাগারের কথা ২০১৩ সালে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল এবং শুরুতে এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে এবং কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এটি আরও বিলম্বিত হয়। এই প্রজেক্টের জন্য বিশাল ভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ঘনমিটার বালি স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই শোধনাগারটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম। আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে এই উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ড্যানগোটের।