দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার ঢাকায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মনোভাব ব্যক্ত করেন। মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, হামলা ও ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জননিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট উৎকণ্ঠা তৈরি করছে।

এই ধরনের অপরাধ দমন করতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি অপরাধের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন মামুনুল হক। তার মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপই পারে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন তিনি। ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মুসলিম যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সংঘাতের সাথে জড়িত পক্ষগুলোকে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাওলানা মামুনুল হক ইসরায়েলকে ওই অঞ্চলের প্রধান শত্রু হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উচিত ইসরায়েলকে শক্তিশালী করতে পারে এমন যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক দেশগুলোর একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক ও মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আবদুল আজিজ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি ও মুফতি শরাফত হোসাইন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা উজাইর আমীন ও মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদি সহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।