ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী সুইং বোলার মোহাম্মদ শামি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার অবসরের কথা ঘোষণা করেন। কাকতালীয়ভাবে, ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর যেদিন তিনি টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন, ঠিক ১৩ বছর পর ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর তিনি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন।
নিজের দীর্ঘ যাত্রার কথা স্মরণ করে শামি জানান, এই ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলেছে। উত্থান-পতন, চোট এবং শারীরিক আঘাতের সঙ্গে লড়াই করে তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। এই দীর্ঘ পথচলায় তার কোচ, ট্রেইনার, ফিজিও এবং নেপথ্যের সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ক্রিকেট ভক্তদের ভালোবাসা এবং উৎসাহের কথা উল্লেখ করে শামি বলেন, তাদের সমর্থন তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে এবং তা তিনি চিরকাল মনে রাখবেন।
২০১৩ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে অভিষেকের ম্যাচেই শামি সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং প্রদর্শন করেন, যেখানে তার রিভার্স সুইংয়ের জাদু ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছিল। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে মোট ৬৪টি ম্যাচে ২৭.৭১ গড়ে ২২৯টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি, যার মধ্যে ৬বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ছিল ভারতের হয়ে তার শেষ লাল বলের ম্যাচ। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে রাঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলে তার ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। গত আসরে বেঙ্গলের হয়ে সাত ম্যাচে ১৬.৭২ গড়ে ৩৭ উইকেট নিয়ে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন তিনি। এমনকি নতুন মৌসুমেও দিল্লির বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে তার দক্ষতা প্রমাণ করেন। তবে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজর না থাকায় শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অবসরের ঘোষণা দিলেও শামি জানিয়েছেন, তিনি সাদা বলের ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাবেন। আইপিএল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে দেখা যাবে। তবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে তার ফেরার সম্ভাবনা আর নেই। ফিটনেস ঠিক থাকলে তিনি দীর্ঘ সংস্করণের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। উল্লেখ্য, সব ফরম্যাট মিলিয়ে ভারতীয় জার্সিতে তাকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, যেখানে তিনি ভারুন চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথভাবে দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। সীমিত ওভারের জাতীয় দলে তার ফেরার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।




