ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে এক অভিনব প্রতারণার দায়ে কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন ৩৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন। চুটকি বাজিয়ে ব্যাটে বল লাগার শব্দ তৈরি করে আম্পায়ারকে আউট দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করার অভিযোগে তাঁকে আগামী দুই বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগ। ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, এই নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে কোচিং, আম্পায়ারিং, স্কোরিং বা কোনো জুনিয়র দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও তাঁর থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি 'ক্লিকি পন্টিং' নামে পরিচিত ছিলেন, যা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের নামের সাথে মিল রেখে রাখা হয়েছিল।

ঘটনাটি গত জুলাই মাসে নর্টনের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ঘটে। সল্টবার্নের দ্বিতীয় দলের হয়ে স্লিপে ফিল্ডিং করার সময় ব্রায়ান ডিভাইন লক্ষ্য করেন, নোমান শাবি নামের ব্যাটসম্যান অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়েও বল স্পর্শ করতে পারেননি। বলটি উইকেটকিপারের হাতে পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ডিভাইন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চুটকি বাজান, যা শুনতে মনে হয়েছিল বলটি ব্যাটের কানায় লেগেছে। এই শব্দে বিভ্রান্ত হয়ে আম্পায়ার ব্যাটসম্যানকে আউট ঘোষণা করেন। তবে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় এবং ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রতারণা ফাঁস হয়ে যায়। এছাড়া বিরোধী দলের এক ব্যাটসম্যানও এই আচরণের কথা অভিযোগ করেছিলেন।

তদন্তে দেখা গেছে, এই ঘটনাটি কেবল একবারের ছিল না। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত মৌসুমে ডিভাইন যখন দলে ছিলেন, তখন ১৩টি ম্যাচে উইকেটকিপার ৩৯টি ক্যাচ নিয়েছেন। বিপরীতে, ডিভাইন যখন খেলেননি, তেমন ৭টি ম্যাচে উইকেটকিপারের ক্যাচ ছিল মাত্র ৫টি। বিশেষ করে ১৮ জুলাই শিলডন রেলওয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচে উইকেটকিপার জশ বোয়েস ৮টি ক্যাচ নেন, যা পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। এই অস্বাভাবিক পরিসংখ্যানই ডিভাইনকে কেন্দ্র করে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তাঁর ক্লাব সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাবের দ্বিতীয় দলকেও এই ঘটনায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে দলটিকে তৃতীয় বিভাগে নেমে খেলতে হবে এবং তাদের অগ্রিম ৬০ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্লাবটিকে ৩০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগ সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার, লিখিত বক্তব্য এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর আগে বিতর্কের মুখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ডিভাইনকে সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে রেখেছিল।