যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম 'অ্যাফোর্ডাবিলিটি' বা জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর অক্ষমতা। এক সময়ের প্রতিশ্রুতি ছিল—কঠোর পরিশ্রম করলে যে কেউ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অর্জন করতে পারবে, যাকে 'আমেরিকান ড্রিম' বলা হতো। তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি এখন কেবলই অতীত। কয়েক দশক আগে যে জীবনযাত্রা সহজ ছিল, এখন তা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

একটি উদাহরণ দিয়ে এই বৈষম্য স্পষ্ট করা হয়েছে। ১৯৫৫ সালে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ম্যাকডোনাল্ডসে ডিনার করতে ন্যূনতম মজুরির মাত্র তিন ঘণ্টা কাজ করলেই চলত। অথচ বর্তমানে একই খাবারের জন্য প্রায় পুরো আট ঘণ্টার কাজের মজুরি প্রয়োজন।Similarly, ১৯৬০ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা আগের চেয়ে অর্ধেক কম সাশ্রয়ী হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা যখন জাতীয় অর্থনৈতিক সূচক বা শেয়ার বাজারের উত্থানের কথা বলেন, সাধারণ মানুষ তখন লড়াই করে বাড়ি ভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং নিত্যপণ্যের দামের সাথে। এই দুই বিপরীত অভিজ্ঞতার কথা বোঝাতে 'কে-শেপড' (K-shaped) ইকোনমি রূপকের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একদিকে অতি-ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, আর অন্যদিকে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ আরও তলিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার বাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেও তিনজনের মধ্যে দুইজন আমেরিকান তাদের খরচ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই সংকট কেবল ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। উচ্চমূল্যের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষকে ঋণের জালে বন্দি করে ফেলছে। তারা এখন 'বাই নাও, পে লেটার' বা পে-ডে লোনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরণের চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা চরমপন্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উসকে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার এই ব্যয়সংকট আসলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার বিশ্বাসের চরম অবক্ষয়। রাজনৈতিক নেতারা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। স্বাধীনতার দেশে মানুষ এখন নিজেকে আটকা পড়া মনে করছে। আমেরিকার ২৫০তম বছরে এসে এই অর্থনৈতিক বৈষম্য দেশটির অস্তিত্বের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার এই বিশাল ব্যবধান এবং বাস্তব জীবনযাত্রার মানের পার্থক্য দূর করা প্রয়োজন।