সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা চরম বৈষম্য এবং স্বজনপ্রীতির কবলে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে 'সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ' (সিজিএস) উদ্বোধনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, দলীয় আনুগত্যসম্পন্ন নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করা হতো, যার ফলে অনুমোদনের পরপরই সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নহীন বা 'মৃত' হয়ে যেত। গত শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল, সে বিষয়ে গভীর গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, আগের সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং সেগুলোকে কার্যত ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এই বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের ওপর, যার ফলে বেকারত্ব ও সামাজিক ব্যবধান বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের এই বৈষম্যমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। তাই এখন জবাবদিহিমূলক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিতুমীর জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ খ্যাতনামা ৩৬ জন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ গুরুত্বারোপ করেন যে, বিনিয়োগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কেবল ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই দুর্নীতি দূর হবে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন আস্থা এবং ন্যায়নীতি। ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও রাজস্বসহ প্রায় সব খাতেই শাসনব্যবস্থার সমস্যা বিদ্যমান। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অলিগার্কি বা পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
অন্যদিকে, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পরিচালক আবদুল বাকি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিবর্তনকে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে হবে, কারণ জনগণের প্রত্যাশা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য কেবল শিক্ষা প্রদান নয়, বরং জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব তৈরি করা এবং জ্ঞান সৃষ্টি করা। 'কানেকটিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিক, নীতিনির্ধারক এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।




