বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিপুল চাহিদা এবং বিভিন্ন খাতের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে আগামী বছর তাদের চিপ বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বৃহস্পতিবার এই লক্ষ্যমাত্রার কথা ঘোষণা করেন। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনভিডিয়ার এই নতুন পূর্বাভাস আগামী ছয় প্রান্তিকে তাদের প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকার একটি শক্তিশালী সংকেত। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে তাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭০ শতাংশ হতে পারে, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়াতে পারে ৬৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই ঘোষণা বাজার বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

স্কটল্যান্ডে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে আয়োজিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে কথা বলার সময় হুয়াং বলেন, “আমি আশা করি, চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর আমরা দ্বিগুণ সংখ্যক চিপ বিক্রি করতে পারব।” তার মতে, বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি দেশই এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এবং বিভিন্ন অর্থনীতি ও শিল্পের উন্নয়নে এই প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম। যদিও এনভিডিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মোট বিক্রিত চিপের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করে না, তবে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টারের জন্য ব্যবহৃত ‘গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট’ বা জিপিইউ। বিশেষ করে তাদের ফ্ল্যাগশিপ ব্ল্যাকওয়েল এবং রুবিন চিপগুলো অত্যন্ত পরিচিত। গত বছরের শেষ ভাগে হুয়াং জানিয়েছিলেন যে, মাত্র চার প্রান্তিকে তারা প্রায় ৬০ লাখ ব্ল্যাকওয়েল জিপিইউ সরবরাহ করেছেন।

জিপিইউ ছাড়াও এনভিডিয়া আরও নানা ধরণের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও প্রসেসর তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ), সুইচ চিপ, ল্যাপটপের বিশেষ চিপ এবং অপটিক্যাল নেটওয়ার্কিং চিপ। এছাড়া রোবটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জন্য ব্যবহৃত জেটসন চিপ এবং জনপ্রিয় গেমিং কনসোল ‘নিনটেনডো সুইচ ২’-এর শক্তিশালী চিপও তাদের উৎপাদিত পণ্য।

যুক্তরাজ্য সফরে এই শীর্ষ সম্মেলনে গুগল ডিপমাইন্ড, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন জেনসেন হুয়াং। মূলত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি এই সফরে যান। বর্তমানে এআই গবেষকদের মধ্যে একটি বড় উদ্বেগ কাজ করছে যে, মানুষ হয়তো সবচেয়ে উন্নত এআই সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। মানবতার জন্য এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। এই প্রসঙ্গে হুয়াং স্পষ্টভাবে জানান, কোনো পণ্যের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার বাণিজ্যিক প্রসারের চেয়ে কারিগরি বা প্রকৌশলগত উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিস্তার স্থগিত রাখাই শ্রেয়।