আন্তর্জাতিক বিরতির মাঝপথেই পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে সৌদি আরবে ফিরে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। তাঁর এই আচরণের পেছনে কোচ এবং ফেডারেশনের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত অভিমান কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্তুগালকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি তিনটি শিরোপা জিতিয়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপের পর তাঁর অবসরের গুঞ্জন থাকলেও, আল নাসরের কোচ জর্জ জেসুস জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁকে আরও কিছুদিন মাঠে রাখার অনুরোধ জানান। জেসুস কথা দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজন অনুযায়ী রোনালদোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্তুগালের ঘরের মাঠে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি একাদশে ছিলেন, তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখার কথা ছিল। ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে ৬৭ মিনিট খেললেও খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে কোচ জেসুস তাঁকে শুরু থেকেই বেঞ্চে রাখেন। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপ করতে বলা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয়ী ম্যাচে পুরো সময়টাই তাঁকে বাইরে বসে কাটাতে হয়। ২০০৮ সালের ইউরোর পর ১৮ বছরের দীর্ঘ সময়ে এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সম্পূর্ণ সময় তিনি বেঞ্চে কাটিয়েছেন। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সতীর্থ ও কোচকে এড়িয়ে চুপিসারে মাঠ ত্যাগ করে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি।

পরবর্তীতে এই বিষয়ে কোচ এবং ফেডারেশনের প্রধানের সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রোনালদো জানতে চান, কেন কোচ তাঁর দেওয়া কথা রাখলেন না। জেসুস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং সংবাদ সম্মেলনে কোচ মন্তব্য করেন, রোনালদোকে নিয়ে জোর করে কথা বলার কিছু নেই এবং তিনি এখন পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তিত। কোচের এই উদাসীনতায় রোনালদোর ইগোতে আঘাত লাগে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে সেবা দেওয়া এবং নেতৃত্ব দেওয়া এই কিংবদন্তির এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবলই সাময়িক অভিমান নাকি পর্তুগালের লাল জার্সি গায়ে তাঁর চূড়ান্ত বিদায়। এই অনিশ্চয়তা সমর্থকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।