দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি পুনরায় উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। প্রায় দুই মাস পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এলেও গত বৃহস্পতিবার সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি স্থানান্তরে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। শুক্রবার সকালে থেকে সরবরাহ পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরের কাজে বিঘ্ন ঘটে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের ওপর। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দীর্ঘ দিন ধরে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি গত বুধবারও ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই পরিমাণ কমে ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট কম। শুক্রবার সকাল ১০টার হিসাব অনুযায়ী সরবরাহ বেড়ে ২৩৪ কোটি ঘনফুট হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এই এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে পাঠানোর জন্য মহেশখালীর সমুদ্রে দুটি ভাসমান টার্মিনাল ব্যবহৃত হয়—একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেটের এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের। এই দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট। নতুন এলএনজি বহনকারী জাহাজ বন্দরে পৌঁছালেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে গতকাল তা টার্মিনালে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরবরাহ কমে ৫৯ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল, যা গত কয়েকদিন ধরে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুট ছিল। শুক্রবার সকালে এই সরবরাহ বেড়ে ৭৩ কোটি ঘনফুট হয়েছে এবং পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এই পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।




