বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই সংস্কারকাজে স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ পেয়েছে। নতুন গ্যালারি চেয়ার, সংস্কারকৃত প্যাভিলিয়ন, আধুনিক মিডিয়া ভবন, তিনতলা হোস্টেল এবং সচল ফ্লাডলাইটের মাধ্যমে এর দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তবে এই আধুনিকায়নের ফলে দর্শক ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার থেকে কমে ১৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই মাঠেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন প্রতিযোগিতা ‘ডোমেস্টিক থ্রি’ বা ‘ডি-থ্রি’ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হবে। ঢাকার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি এখানে এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ছয়টি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেনস ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট এবং ফরচুন গ্রুপ নামের ছয়টি দল অংশ নেবে। প্রতিটি দলের জন্য একজন করে আইকন ক্রিকেটার নির্ধারিত হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তাওহিদ হৃদয়ের মতো তারকা খেলোয়াড়রা। এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং ক্রিকেটারদের তিনটি ফরম্যাটেই খেলার সুযোগ করে দেওয়া।
স্টেডিয়ামের এই জৌলুসের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক ক্রিকেটারদের মনে কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে। বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমান কোচ এজাজ আল মাহমুদের মতে, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে ক্রিকেটের সংকট দূর হবে না। নতুন প্রতিভা তৈরির জন্য নিয়মিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। স্থানীয় ক্রিকেটার মাইনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে এই অঞ্চলে নতুন ক্রিকেটার তৈরি হয়নি এবং খেলোয়াড় নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব আনোয়ারুল হক আশ্বস্ত করেছেন যে, নতুন কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ করা হবে এবং স্থানীয় লিগ চালুর চেষ্টা চলছে।
অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, মূল মাঠটি বিসিবির অধীনে থাকায় স্থানীয় লিগ আয়োজনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সংকট কাটাতে স্টেডিয়ামের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত সুইমিং পুল সরিয়ে সেখানে নতুন খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া বিকেএসপির সাথে সমঝোতা করে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সালে শুরু হওয়া এই সংস্কারকাজ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘায়িত হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৫ শতাংশ কাজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের প্রকৌশলী মো. রায়হান গাজী।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়ামটির নাম ২০০৮ সালে আবদুর রব সেরনিয়াবাত রাখা হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান নাম ‘কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম’ হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে উন্নত আবাসন এবং নিয়মিত বিমান যোগাযোগসহ আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।




